নয়া দিল্লি
দেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ আরও সুলভ করতে বড় পদক্ষেপ নিল ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)। সংস্থাটি ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি৩ ট্যাবলেট এবং অ্যান্টি-রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশনের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনপিপিএ-র জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ ট্যাবলেটের খুচরা মূল্য প্রতি ট্যাবলেট ৮.৯৩ টাকা (জিএসটি-সহ) নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্য একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে অ্যান্টি-রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশনের নতুন মূল্য ১১৯.৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অত্যাবশ্যক এই ওষুধের সহজলভ্যতা ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম বজায় রাখতেই নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তৃতীয় বিজ্ঞপ্তিতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৯টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ড্রাগস (প্রাইসেস কন্ট্রোল) অর্ডার, ২০১৩ (DPCO)-এর বিধান অনুসারে এই মূল্যসীমা কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমানো এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা। সেই কারণে এনপিপিএ সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে সংশোধিত মূল্য কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য ওষুধের প্যাকেটে ছাপানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিল্পমহলের মতে, হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে বহুল ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি৩ ট্যাবলেটের নতুন মূল্য নির্ধারণ রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। অন্যদিকে, জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ হাসপাতাল ও রোগী, উভয়েরই উপকারে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের আরও মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসুস্থতার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় এমন পরিবারগুলির ওপর ওষুধের খরচের চাপ কমাতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এনপিপিএ জানিয়েছে, বাজারের তথ্য, উৎপাদন ব্যয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনপিপিএ-র জারি করা এই তিনটি বিজ্ঞপ্তিই দেশের সমস্ত উৎপাদক, আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি ডিপিসিও-র নিয়ম মেনে পুরনো এমআরপি-সহ মজুত ওষুধ বিক্রির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে অত্যাবশ্যক বিভিন্ন চিকিৎসা-শ্রেণির ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে এনে রোগীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ওষুধ শিল্পের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে এনপিপিএ-র এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।