'টিবি-মুক্ত ভারত'কে গণআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জে.পি. নাড্ডার, যুবসমাজকে যুক্ত করার ওপর জোর
নয়াদিল্লি:
দেশের যুবসমাজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে 'টিবি-মুক্ত ভারত' অভিযানে গণআন্দোলনের রূপ দেওয়ার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা। মঙ্গলবার টিবি নির্মূল কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে তিনি বলেন, যক্ষ্মা (টিবি) নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক, ক্রীড়া ও শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে টিবি নির্মূল কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি 'প্রগতি' বৈঠকে টিবি নির্মূল অভিযানে যুবসমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য পূরণে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রককে 'মাই ভারত'-এর স্বেচ্ছাসেবক, এনসিসি ক্যাডেট এবং অন্যান্য যুব সংগঠনকে এই অভিযানের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
জে.পি. নাড্ডা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে টিবি স্ক্রিনিং শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি আয়োজনের ওপরও জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, টিবি নির্মূলকে শুধুমাত্র সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
বৈঠকে মনসুখ মাণ্ডব্য প্রস্তাব দেন, দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হোক। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লক্ষ স্নাতক এবং ২ লক্ষ স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁরা টিবি রোগী শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে টিবি-মুক্ত ভারত গড়ে তুলতে সরকার একাধিক কর্মসূচি চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সক্রিয় রোগী শনাক্তকরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা, 'নিক্ষয়' পোর্টালের মাধ্যমে রোগীদের পর্যবেক্ষণ এবং 'নিক্ষয় মিত্র' উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টি সহায়তা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সর্বাধিক টিবি রোগীর দেশ হওয়ায় ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ বড় হলেও, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে টিবি নির্মূলের লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।