কলকাতা:
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার সবুজ-মেরুন শিবিরেও দেখা গেল উৎসবের আবহ। দেশের নানা প্রান্তের মতো কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবেও রবিবার পালন করা হল ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস, সভাপতি দেবাশিস দত্ত-সহ এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যরা। বিশেষ আকর্ষণ ছিল ছোটদের উৎসাহপূর্ণ অংশগ্রহণ।
যোগ প্রশিক্ষক সন্দীপ পালের তত্ত্বাবধানে কচিকাঁচারা বিভিন্ন যোগাসনে অংশ নেয়। ক্লাব কর্তাদের মতে, শরীর ও মনের সুস্থতার পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও যোগাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস বলেন, “কলকাতার ময়দানে এইভাবে যোগ দিবস পালনের বিশেষ প্রচলন ছিল না। তবে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে সভাপতি দেবাশিস দত্তের মতে, “শুধু একটি দিন নয়, সারা বছর নিয়মিত যোগাভ্যাস করাই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
যোগ দিবসের আবহেই উঠে আসে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা। সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ফুটবল ফেডারেশন অফ ভারত’ করার প্রস্তাব এবং ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সুপারিশ নিয়ে মত প্রকাশ করেন মোহনবাগান কর্তারা।
সৃঞ্জয় বোস বলেন, “জাতীয় সঙ্গীত এবং বন্দে মাতরম—দুটি গানই আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। ফেডারেশনের নামের সঙ্গে ‘ভারত’ শব্দ যুক্ত হওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ভারত যেন অন্তত প্রথম ১০০ দেশের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে আলাদা করে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান না হলেও লাল-হলুদ শিবিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ক্রীড়া মহলের মতে, যোগ ও শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থতার বার্তার পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছনোর স্বপ্নকেও সামনে আনল এদিনের মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন কর্তাদের বার্তা, যোগের শৃঙ্খলা ও একাগ্রতাই ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।