কলকাতা:
দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন। রবিবার কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে এই খবর জানা গেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক জানান, গত কয়েক দিনে রাজা সেনের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অবনতি হয়েছিল। তাঁর ফুসফুস, হৃদযন্ত্র এবং কিডনিতে একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসা চললেও তাঁর অবস্থা সংকটজনক ছিল।
প্রাথমিকভাবে কোমরের নীচের অংশে চোট পাওয়ার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল রাজা সেনকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং পরবর্তীতে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর গত সোমবার তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসার সময় কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়।
রাজা সেনের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমা, টেলিভিশন এবং তথ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালে ‘দামু’ ছবির মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজা সেন। ছবিটি পরবর্তীতে শ্রেষ্ঠ শিশুচলচ্চিত্রের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এই ছবিই তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আত্মীয় স্বজন’, ‘দেশ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘ল্যাবরেটরি’ এবং ‘মায়া মৃণাল’।২০০২ সালে তাঁর পরিচালিত ‘দেশ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন জয়া বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেছেন রাজা সেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তাঁর তথ্যচিত্র উল্লেখযোগ্য।
বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও তথ্যচিত্র নির্মাণে দীর্ঘ কয়েক দশকের অবদানের পর রাজা সেনের প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা।