১৫-তেই ৫ জুনিয়র ন্যাশনাল! জোয়া জান্নাতের লক্ষ্য এবার ষষ্ঠ—বেঙ্গালুরু যাত্রা ১৮ অক্টোবর

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 8 h ago
১৫-তেই ৫ জুনিয়র ন্যাশনাল! জোয়া জান্নাতের লক্ষ্য এবার ষষ্ঠ—বেঙ্গালুরু যাত্রা ১৮ অক্টোবর
১৫-তেই ৫ জুনিয়র ন্যাশনাল! জোয়া জান্নাতের লক্ষ্য এবার ষষ্ঠ—বেঙ্গালুরু যাত্রা ১৮ অক্টোবর
 
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী:

কলকাতার লেক গার্ডেন্সের ৩ নম্বর বিশ্বাস পাড়া লেনের একটি গরীব পরিবারের ছোট মেয়ে জোয়া জন্নাত। খুব ছোট বেলায় মা নাসিমা বিবির হাত ধরেই তার সাঁতারে আসা। কারন নাসিমা বিবি তার দুই ছেলে মেয়েকে জলে নামিয়ে ছিলেন সাঁতারটা শেখানোর জন্য। কিন্তু পরবর্তীকালে ছেলে পারলেন না। মেয়ে জোয়া পারলেন একজন সাঁতারু হতে। সাঁতার শেখার পর জলের প্রতি তার এল এক অদ্ভুত টান। পুকুর বা নদী দেখলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইতো। 

এরপর সে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেতে শুরু করে। এরকমই একটা প্রতিযোগিতায় বাংলার জাতীয় দলের  নজরে পড়েন জন্নাত।  বাবা-মা তাকে সাঁতার ক্লাবে ভর্তি করান। 

 জন্নাতের বাবা-মা তাকে স্থানীয় লেক গার্ডেন্সের রবীন্দ্র সরোবরের সুইমিং ক্লাবে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার সাঁতারু হয়ে ওঠার লড়াই। এখন সে বেহালার পূর্ব রেলের সুইমিং একাডেমীতে কোচ আকবর আলীর প্রশিক্ষণে আছে। আকবর আলীর মীরের হাত ধরেই সে ৫টা জুনিয়র ন্যাশনাল করে ফেলেছে। প্রতিটি ন্যাশনালে সে প্রথম থেকে তূতীয় স্থানের মধ্যে থেকেছে।

কয়েকদিন আগে কলকাতার মেট্রোপলিটন আন্তর্জাতিক সুইমিং পুলের রাজ্য মিটে প্রথম স্থান পেয়ে সে ষষ্ঠ ন্যাশনালে অংশ নিতে  বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছে, যেটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮ অক্টোবর। 

শুরুর দিকে ছোট্ট মেয়েটির ছিল কঠিন সংগ্রাম।ভোরবেলার অনুশীলন। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে জন্নাত লেক গার্ডেনসের রবীন্দ্র সরোবর সুইমিং পুলে যেত। কনকনে শীতেও সে অনুশীলন বাদ দেয়নি।এর জন্য তাকে পড়তে হয়েছিল নানান বিদ্রূপের মুখেও। এলাকার অনেকেই বলত, "মেয়ে মানুষের এত সাঁতার কেটে কী হবে?" কিন্তু জন্নাত ও তার বাবা-মা এসবে কান দেয়নি।

আর্থিক অভাব। বাবা সেখ মেহতাব আলী কাজ করতেন স্থানীয় এক কেবল সংস্থায়। তাই ভালো মানের কস্টিউম এবং পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

 
জোয়া জন্নাত
 
 
কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলল দ্রুতই। যেদিন থেকে সে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা গুলিতে অংশ নিতে শুরু করলো। সেখানে অভিজ্ঞ সাঁতারুদের পেছনে ফেলে সে সবাইকে চমকে দিয়ে একটার পর একটা পদক জেতে। এই জয় তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

জেলা জয়ের পর জন্নাত দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অনুশীলন শুরু করে। লক্ষ্যটা ছিল জুনিয়র জাতীয় সাঁতারে অংশ নেওয়া। সাফল্যটাও সে পেল  জাতীয় সাঁতারে অংশ নিয়ে। 

ফোর্ট উইলিয়াম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী জোয়া জন্নাতের চোখে এখন অনেক স্বপ্ন। সে সিনিয়রে অংশ নেয়ার পর, সেখানে সাফল্য কুড়িয়ে দেশের বাইরে  লাল-সবুজের পতাকা ওড়াবে। সে আজ শুধু একজন সফল সাঁতারু নয়, হাজারো কিশোরীর অনুপ্রেরণা।

জোয়া জন্নাতের সাঁতার জীবনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য:

২০২১ সালের জুনিয়র ন্যাশনাল অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন।কেভিএস ন্যাশনাল স্পোর্টস মিটে ১০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ মিটার ইনডিভিজুয়াল মিডলেতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে দ্বিতীয় এবং ৪+১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল রিলেতে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন,এসজিএফআই  অনূর্ধ্ব-১৪ সাঁতার দলে  বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন।


শেহতীয়া খবৰ