জঙ্গি-রাডারে কি বাংলার সীমান্ত ? বিএ পাশ যুবকের বেঙ্গালুরুতে 'জঙ্গি-সন্দেহে' গ্রেফতারিতে প্রতিবেশীরা বললেন, গ্রামে ওর মতো ভালো ছেলে নেই
Story by Tarun Nandi | Posted by Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
জঙ্গি-রাডারে কি বাংলার সীমান্ত ? বিএ পাশ যুবকের বেঙ্গালুরুতে 'জঙ্গি-সন্দেহে' গ্রেফতারিতে প্রতিবেশীরা বললেন, গ্রামে ওর মতো ভালো ছেলে নেই
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
‘আমার ছেলে কত ভাল জানেন, সবার কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখুন। চাকরির জন্য ও অনেক কষ্ট করেছে।’ ডব্লিউবিসিএসের বইপত্র দেখিয়ে কান্না জঙ্গি-যোগে গ্রেফতার হওয়া আশরাফুলের মায়ের। ঘটনার কথা জেনে বিস্মিত গ্রামবাসীরাও। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া এলাকার নোয়াপাড়া গ্রামের এই জীর্ণ বাড়িকে ঘিরে এখন শুধুই উৎকন্ঠা।বাড়ির পরিবেশেই প্রকাশ পায় পরিবারটির তীব্র আর্থিক টানাপোড়েনের ছবিটা৷
খারাপ খবরটা পাওয়ার পর থেকে ঘরের বাইরে বসে অঝরে কেঁদে চলেছেন আশরাফুলের মা হাফিজা বিবি। গোবরডাঙা কলেজ থেকে বিএ পাশ করা মেধাবী শান্ত স্বভাবের ছেলেটি কীভাবে জঙ্গি-যোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার হলো, এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজে চলেছে পরিবার থেকে প্রতিবেশীরা।
আশরাফুলের মা হাফিজা বিবি বলেন, ছেলে চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সংসারটাও চালাতে হবে তো। তাই বাধ্য হয়ে বেঙ্গালুরুতে সিকিউরিটির চাকরিটা নিয়েছিল।ও এমন কিছু করতে পারে, আমি বিশ্বাসই করি না।অভাবের ছাপ পড়ে যাওয়া পরিবারের তীব্র আর্থিক টানাপোড়েন সামলাতে ২৫ বছরের আশরাফুল মল্লিক দেড় বছর আগে বেঙ্গালুরুতে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। আশরাফুলের পরিবারের দাবি, চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছে। বারবার চেষ্টা করেও চাকরি না-পাওয়ার তীব্র হতাশায় সে ভিনরাজ্যে যায় কাজের সন্ধানে।
প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, শান্ত মার্জিত স্বভাবের এই সরল ছেলেটির মানসিক সুযোগ নিয়ে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে কেউ কি তাকে বিপথে চালিত করল? পুলিশ দাবি করলেও, আফগানিস্তানের ভিসা বা পাসপোর্টের বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই। আশরাফুল গ্রেফতারের পর বেঙ্গালুরু থেকে ফোন করে ডেকে পাঠানো হলেও পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা।
আশরাফুলের মা হাফিজা বিবি
উল্লেখ্য, এর আগে বিদেশে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে বাদুড়িয়ার মলয়াপুরের তানিয়া পারভিনের গ্রেফতারির ঘটনা যেন ফের চর্চায় চলে এল আশরাফুলের এই ঘটনা প্রসঙ্গে। শুকুর আলি মণ্ডল নামে এক প্রতিবেশী স্পষ্ট করে জানালেন, আশরাফুলকে আমরা সকলেই খুব ভাল ছেলে বলে জানি। মেধাবী ছেলে ও। চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরিবারের হাল ধরতে ও বাইরে কাজে গিয়েছিল এটুকু জানি। কিন্ত কেন ওকে পুলিশ ধরেছে, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, আমরা কিছুই জানতে পারিনি।
মুশিদা বিবি নামে আরেক প্রতিবেশী তো আশরাফুলকে নিয়ে পজেটিভ সার্টিফিকেট দিলেন। তিনি বলেন, ওর মত শান্ত ভালো ছেলে এই গ্রাম তো বটেই, আশপাশের গ্রামেও পাওয়া যাবে না। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে আশরাফুলের মতো মেধাবী যুবকের এই গ্রেফতারি নিয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে গোটা গ্রামে। তবে কি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির রাডারে এখন বাংলা? এই ঘটনা যেন এমন প্রশ্নকে সামনে এনে দাঁড় করাচ্ছে। বিশেষ করে, গ্রামবাংলার চাকরিপ্রার্থী, আর্থিক চাপে জর্জরিত কিম্বা হতাশায় ভোগা মেধাবী যুবকদের কি বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে?
তাদের সরলতা ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে কট্টরপন্থার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে না তো? প্রশ্নগুলো কিন্তু তুলতে শুরু করছে গ্রামের মানুষ। সব মিলিয়ে আশরাফুলের গ্রেফতারি যেন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের যুবসমাজকে ঘিরে এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।