লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন রানি মুখোপাধ্যায়, গর্বিত অভিনেত্রী
মেলবোর্ন:
ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স (ডি.লিট.) পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার মেলবোর্নে আয়োজিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম)-এর অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।
সম্মান পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রানি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এই সম্মান পাওয়া তাঁর কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। এই স্বীকৃতিতে তিনি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ বলেও জানান অভিনেত্রী।
রানি বলেন, একজন অভিনেতা কখনও সম্মানের কথা ভেবে নিজের যাত্রা শুরু করেন না। তিনি শুধু আশা করেন, যে গল্প এবং চরিত্র তিনি বেছে নিচ্ছেন, তা দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। তাঁর প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনকে এভাবে স্বীকৃতি দেওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ।
অভিনেত্রীর কথায়, চলচ্চিত্র পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম, কারণ গল্প মানুষের চিন্তা, মন এবং সমাজকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
নিজের অভিনয়জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে রানি জানান, এমন বহু নারীর চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে শক্তিশালী এবং সংবেদনশীল, ত্রুটিপূর্ণ হলেও অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি শুধুমাত্র কাল্পনিক চরিত্র ছিল না; বরং অসংখ্য বাস্তব নারীর প্রতিনিধিত্ব করেছে, যাঁদের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তাঁর অভিনয় যদি কোনওভাবে মানুষকে নারীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল, সম্মানজনক এবং সমতার দৃষ্টিতে দেখতে সাহায্য করে থাকে, তাহলে একজন শিল্পী হিসেবে সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রানি আরও বলেন, এই সম্মান তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে চলচ্চিত্র কোনও সীমান্ত মানে না। বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির দর্শকদের সঙ্গে গল্পের মাধ্যমে যে সংযোগ তৈরি হয়, সেটিই সিনেমার অন্যতম শক্তি।
‘এই সম্মান ভারতীয় সিনেমারও’
সম্মানসূচক ডক্টরেটকে নিজের জন্য যেমন গর্বের বলে উল্লেখ করেছেন, তেমনই এর সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার সম্মানও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করেন রানি।
তাঁর বক্তব্য, ভারত সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র ঐতিহ্য ও গল্প বলার সংস্কৃতির দেশ। বিশ্বমঞ্চে সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত যাত্রার স্বীকৃতি নয়, বরং ভারতীয় সিনেমা এবং বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে চলা দেশের অসাধারণ প্রতিভারও স্বীকৃতি।
প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে রানি মুখোপাধ্যায় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মান।
‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মর্দানি’ সিরিজ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-র মতো ছবিতে তিনি নারী নির্যাতন, ন্যায়বিচার, প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি এবং নারীর অধিকার-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়কে পর্দায় তুলে ধরেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত রানি। চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ইউ (সিআরওয়াই), ইন্ডিয়ান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্যানসার পেশেন্টস এইড অ্যাসোসিয়েশন-এর মতো সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি সহযোগিতা করেছেন।
২০০৭ সাল থেকে মুম্বইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল-এর শিশু ও নবজাতকের চিকিৎসা পরিষেবার বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি সহায়তা করে আসছেন। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিশু ও নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত নিবিড় চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও তাঁর অবদান রয়েছে।
এদিকে ১৩ আগস্ট মেলবোর্নে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই রানি মুখোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হল তাঁর অভিনয়জীবনের এই বিশেষ সম্মান।