‘মৌচাক’-খ্যাত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ, দীর্ঘ এক বছরের ক্যানসার-লড়াইয়ের অবসান
কলকাতা ঃ
প্রয়াত বর্ষীয়ান বাঙালি অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছরের ক্যানসারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বইয়ে বসবাস করছিলেন অভিনেত্রী।
একসময় বাংলা ছবির পর্দায় নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন মিঠু। উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক-সহ সেই সময়ের একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ‘মৌচাক’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘নিশিকন্যা’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’, ‘প্রতিমা’, ‘ভাগ্যচক্র’, ‘সন্ধি’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
১৯৫৫ সালে কলকাতায় জন্ম মিঠুর। মাত্র ১৭ বছর বয়সে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন তিনি। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ। এরপর দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দেয়। ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’-এ উত্তম কুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে অভিনয় করেন মিঠু। ছবিটি তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুধু বাংলা ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন। পরে বসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুঠ’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দো কড়কে’-তেও অভিনয় করেন।
আশির দশকের মাঝামাঝি ‘দুজনে’র পর দীর্ঘ বিরতি নেন মিঠু। ১৯৯০ সালে ‘আশ্রিতা’ ছবির মাধ্যমে পর্দায় ফেরেন। সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত তাঁর শেষ চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। এরপর সচেতনভাবেই গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখেন তিনি।
জীবনের শেষ কয়েক বছর লোকচক্ষুর আড়ালেই কাটিয়েছেন ‘মৌচাক’-খ্যাত এই অভিনেত্রী। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রে শেষ হল আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।