জুবিনের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা, কলকাতায় ‘লাভ ইউ জুবিনদা’র শুটিংয়ে গরিমা শইকিয়া গার্গ।

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 h ago
জুবিনের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা, কলকাতায় ‘লাভ ইউ জুবিনদা’র শুটিংয়ে গরিমা শইকিয়া গার্গ।
জুবিনের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা, কলকাতায় ‘লাভ ইউ জুবিনদা’র শুটিংয়ে গরিমা শইকিয়া গার্গ।
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

কলকাতার বুকে অসমীয়া শিল্পী জুবিন গার্গের স্মৃতি ফিরে আসছে নতুন এক আবহে। তাঁর জীবন ও শিল্পীসত্তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবি। ইতিমধ্যেই গুয়াহাটিতে প্রথম পর্যায়ের শুটিং শেষ হয়েছে। এবার কলকাতায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। সেই শুটিংয়ে অংশ নিতে কলকাতায় এসেছেন জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে এল বাংলার প্রতি ভালোবাসা, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্মতা এবং জুবিনের স্মৃতিতে তৈরি হওয়া এই ছবিকে ঘিরে আবেগের কথা।

পেশায় কস্টিউম ডিজাইনার গরিমা দীর্ঘদিন ধরে অসমীয়া চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন সিনেমায় জুবিনের পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তবে ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবিতে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে অভিনয় করছেন। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরুতে কিছুটা ভয় ও সংকোচ ছিল তাঁর। কিন্তু শুটিং এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই দ্বিধা কেটে গিয়েছে। এখন গোটা টিমের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছেন তিনি।

কলকাতায় এসে কেমন লাগছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে গরিমার কথায় বারবার ফিরে এল বাংলার প্রসঙ্গ। বাংলার সংস্কৃতি, মানুষের আন্তরিকতা এবং বাঙালির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিনের। এই শহরে এসে নিজেকে কখনও বাইরের মানুষ বলে মনে হয়নি বলেই জানালেন তিনি। বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা জুবিনের শিল্পীজীবনের সঙ্গেও গভীর ভাবে যুক্ত।

গরিমা বলেন, জুবিন কখনও অসম এবং অসমীয়া মানুষকে আলাদা চোখে দেখেননি। তাঁর কাছে বাংলা ও বাঙালিরাও ছিলেন আপনজনের মতোই। শিল্পী হিসেবে জুবিনের এই উদার মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর গান ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে। অসমীয়া শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও বাংলার মানুষ তাঁকে কখনও হেয় করেননি। বরং ভালোবাসা ও সম্মানে ভরিয়ে দিয়েছেন। সেই ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে গরিমার কণ্ঠে ছিল গর্ব ও আবেগ।

জুবিন বাংলায় যে সম্মান পেয়েছেন, তা কখনও ভোলার নয় বলে জানান তাঁর স্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষের ভালোবাসা জুবিনের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। সেই ভালোবাসার ধারাবাহিকতাই যেন এখন ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবির মাধ্যমে নতুন করে ফিরে আসছে। কলকাতায় এসে তিনিও যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন, তাতে আপ্লুত গরিমা। শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ।

ছবির টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে গরিমা বলেন, প্রথম দিকে সবাই কিছুটা দ্বিধা ও সংকোচ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। জুবিনের জীবন নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে, ফলে বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংকোচ কেটে গিয়েছে। এখন গোটা টিম যেন একটি পরিবারের মতো হয়ে উঠেছে। একসঙ্গে কাজ করা, আনন্দ করা, হাসি-ঠাট্টা—সব মিলিয়ে শুটিংয়ের পরিবেশে তৈরি হয়েছে আপনজনের আবহ। জুবিনকে ভালোবেসেই সকলে এই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

গরিমার কাছে এই ছবির কাজ শুধু অভিনয় বা শুটিংয়ের একটি অংশ নয়। জুবিনের স্মৃতিকে ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ। পেশাগত জীবনে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে বহুবার ক্যামেরার পিছনে কাজ করেছেন তিনি। নাটকেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু ছবির জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথম দিকে কিছুটা ভয় থাকলেও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তা কাটিয়ে উঠেছেন। এখন স্বচ্ছন্দে অভিনয় করছেন তিনি।

‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবির শুটিংয়ের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে গুয়াহাটিতে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে কলকাতায়। ছবিতে জুবিনের জীবন, তাঁর শিল্পীসত্তা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে কী ভাবে তুলে ধরা হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। গরিমার কথায়, ছবিটি তৈরির প্রতিটি মুহূর্তে জুবিনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
ছবিটি কবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ জানানো হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি দর্শক ও অনুরাগীরা ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন গরিমা। জুবিনের গান, তাঁর শিল্পীসত্তা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে স্মরণ করে তৈরি এই ছবি অসম ও বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন করে সামনে আনবে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।



শেহতীয়া খবৰ