আমির-গৌরীর বিয়ের আংটিতে রাজকীয় ছোঁয়া, ১৩১ জোড়া কারিগরের ২৫৬ ঘণ্টার নিখুঁত শিল্প
মুম্বাই
বলিউড অভিনেতা আমির খান ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। একান্ত ব্যক্তিগত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সন্তানরা, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধু। বিয়ের দিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে নজর কেড়েছিলেন নবদম্পতি। তবে অনুষ্ঠানের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গৌরীর হাতে থাকা বিশেষভাবে তৈরি একটি রুবির আংটি।
বিয়ের অনুষ্ঠানে আমির খান পরেছিলেন আইভরি রঙের ধুতি-কুর্তা, যার বাম পাশে লাগানো ছিল একটি ব্রোচ। অন্যদিকে, গৌরী স্প্র্যাট পরেছিলেন প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা। গলায় ছিল স্তরযুক্ত হার, আর খোঁপা সাজানো ছিল তাজা ফুলে। তবে তাঁর হাতে থাকা কাস্টমাইজড রুবির বিয়ের আংটিই সকলের নজর কেড়েছে।
বিলাসবহুল গয়নার ব্র্যান্ড কুইন (QWEEN)-এর ডিজাইন করা এই আংটির কেন্দ্রে রয়েছে মাদাগাস্কার থেকে সংগ্রহ করা অত্যন্ত বিরল প্রাকৃতিক ক্যাবোশন-কাট রুবি। বিরল এই রত্ন এবং সূক্ষ্ম কারুকার্যের জন্যই আংটিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কুইন (QWEEN)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অমিত কুমার হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছেন, শুধু এই রুবি সংগ্রহ করতেই তিন মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। তাঁর কথায়, "এই মাদাগাস্কার রুবি এক মিলিয়নের মধ্যে একটি পাওয়ার মতোই বিরল। শুধুমাত্র রুবিটি সংগ্রহ করতেই তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে। ১৩১ জোড়া দক্ষ কারিগরের হাত এবং ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময়ের নিখুঁত পরিশ্রমে এই আংটি তৈরি হয়েছে। আমরা এমন একটি বিয়ের আংটি তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যা সত্যিই রাজকীয় অনুভূতি বহন করবে।"
অমিত কুমার আরও জানান, আংটির নকশা তৈরি, রত্ন বসানো এবং শেষ পর্যায়ের ফিনিশিং, সব মিলিয়ে ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ হয়েছে। তাঁর কথায়, "প্রং সেটিংয়ে বসানো এই আংটির প্রতিটি ধাপে অসাধারণ কারুশিল্পের পরিচয় রয়েছে।"
তিনি জানান, শুরু থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ বিয়ের আংটি তৈরি করা নয়, বরং এমন একটি ঐতিহ্যবাহী গয়না তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে উত্তরাধিকার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া যায়।
এই আংটির নকশাও প্রচলিত রুবির আংটির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণ আংটির মতো রুবিটি সরাসরি ব্যান্ডের ওপর বসানো হয়নি। বরং সোনার তৈরি মুকুটের আকৃতির বিশেষ কাঠামোর মধ্যে রুবিটিকে বসানো হয়েছে। রত্নটিকে ক্যাবোশন কাট দেওয়া হয়েছে, যেখানে পাথরের উপরিভাগ মসৃণ ও গম্বুজাকৃতির থাকে। এর ফলে রুবিটির গভীর রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে এবং একটি স্বাভাবিক দীপ্তি সৃষ্টি করেছে।
অমিত কুমারের কথায়, রুবিটি এমন একটি খাঁজকাটা সোনার গ্যালারির মধ্যে বসানো হয়েছে, যা ধীরে ধীরে মুকুটের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। এরপর মিলগ্রেইন বিডিংয়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ যোগ করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজপরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গয়না এবং রাজ্যাভিষেকের অলংকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিরল মাদাগাস্কার রুবি, হিরের সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং দীর্ঘ সময়ের নিখুঁত কারুশিল্পে তৈরি এই বিশেষ আংটিকে একটি কুত্যুর হেয়ারলুম বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণযোগ্য গয়না হিসেবেই ডিজাইন করা হয়েছে। রাজকীয় নকশা এবং বিরল কারুশিল্পের সমন্বয়ে তৈরি এই আংটি এখন আমির-গৌরীর বিয়ের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।