তিন বছরের অক্লান্ত গবেষণার ফসল, সাংবাদিকের কলম থেকে ওটিটিতে বছরের সেরা সাফল্যের গল্প

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 13 h ago
তিন বছরের অক্লান্ত গবেষণার ফসল, সাংবাদিকের কলম থেকে ওটিটিতে বছরের সেরা সাফল্যের গল্প
তিন বছরের অক্লান্ত গবেষণার ফসল, সাংবাদিকের কলম থেকে ওটিটিতে বছরের সেরা সাফল্যের গল্প
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

বোর্ডরুম থেকে কারখানার কর্মী, অসংখ্য মানুষের সাক্ষাৎকার, হাজারো তথ্যের অনুসন্ধান। সেই দীর্ঘ সাংবাদিকতার গবেষণাই আজ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: আ টাইটান স্টোরি’-কে এনে দিয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা।একজন সাংবাদিকের কাজ শুধু খবর সংগ্রহ করা নয়, ইতিহাসের অজানা অধ্যায় খুঁজে বের করে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস গবেষণা, অসংখ্য সাক্ষাৎকার এবং তথ্য যাচাইয়ের সেই কঠিন পথ পেরিয়েই জন্ম নিয়েছিল একটি বই। আর সেই বইয়ের ভিত্তিতেই তৈরি হওয়া ওয়েব সিরিজ এখন দেশের অন্যতম আলোচিত ও সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
 
সম্প্রতি অ্যামাজন এমএক্স প্লেয়ারে মুক্তি পাওয়া ছয় পর্বের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: আ টাইটান স্টোরি’ দর্শকদের ঘ্ন মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোটি কোটি দর্শক সিরিজটি দেখেছেন। কর্পোরেট ইতিহাস, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন এবং ভারতীয় শিল্পের উত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিরিজের নেপথ্যে রয়েছে একজন সাংবাদিকের অসাধারণ গবেষণার কাহিনি।
এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অর্থনৈতিক সাংবাদিক বিনয় কামাথ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি টাইটান সংস্থার পথচলা পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু শুধু প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প লিখেই তিনি থেমে থাকেননি। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন শীর্ষকর্তা, প্রকৌশলী, কর্মী এবং নেপথ্যের বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলে সংগ্রহ করেছেন অসংখ্য অজানা তথ্য। বোর্ডরুমের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে কারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতা, সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
 
২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাভিত্তিক বইয়ে উঠে আসে টাইটানের জন্ম, শুরুর সংগ্রাম, সরকারি বিধিনিষেধ, আর্থিক চাপ, বিদেশের বাজারে ব্যর্থতা এবং সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস। শুধু সাফল্যের কাহিনি নয়, কঠিন সময়ের বাস্তব ছবিও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
 
পরবর্তীতে সেই বইয়ের স্বত্ব কিনে নেয় একটি প্রযোজনা সংস্থা। বইয়ের তথ্য, বাস্তব ঘটনা এবং গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয় ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: আ টাইটান স্টোরি’। যদিও চিত্রনাট্য লেখায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না বিনয় কামাথ, তবু তাঁর দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানই হয়ে ওঠে সিরিজটির মূল ভিত্তি।
 
প্রতীকী ছবি
 
সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে একসময় বিদেশি সংস্থার প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ভারতীয় শিল্পোদ্যোগীদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশীয় প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখে টাইটানের পথচলা শুরু হয়। ভারতের ঘড়ির বাজারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে সংস্থাটি, যা পরে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।
 
পরিচালনার পাশাপাশি সময়ের আবহ ফুটিয়ে তুলতেও নির্মাতারা বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। সত্তর-আশির দশকের পরিবেশ, টাইটানের কারখানা, টাটা গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সেই সময়ের সংগীত, সব মিলিয়ে দর্শকদের যেন কয়েক দশক পিছিয়ে নিয়ে যায় এই সিরিজ।
 
অভিনয়ে জিম সর্ভ, নাসিরুদ্দিন শাহ, বৈভব তত্ত্ববাদী, নমিতা দুবে-সহ প্রত্যেকেই নিজেদের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। বিশেষ করে টাইটানের স্বপ্নদ্রষ্টা নেতৃত্ব এবং ভারতীয় শিল্পের আত্মবিশ্বাসকে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
 
প্রতীকী ছবি
 
একজন সাংবাদিকের কলমে লেখা গবেষণামূলক বই যে কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে পৌঁছাতে পারে, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: আ টাইটান স্টোরি’ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি শুধু একটি সফল কোম্পানির ইতিহাস নয়; বরং নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, গবেষণা এবং ভারতীয় উদ্ভাবনী শক্তির এক অনন্য নিদর্শন।


শেহতীয়া খবৰ