কৃষকের ছেলের অনন্য নজির স্বর্ণ পদক জয় করে আরবি ভাষায় এলাকার সেরা ব্যক্তিত্ব

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 12 d ago
কৃষকের ছেলের অনন্য নজির স্বর্ণ পদক জয় করে আরবি ভাষায় এলাকার সেরা ব্যক্তিত্ব
কৃষকের ছেলের অনন্য নজির স্বর্ণ পদক জয় করে আরবি ভাষায় এলাকার সেরা ব্যক্তিত্ব
নূরুল হক,আগরতলাঃ

দারিদ্রতা এবং প্রতিকূলতাকে পেছনে ঠেলে নিজের মেধার জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে গোল্ড মেডেল অর্জন করল ত্রিপুরার কৈলাশহরের ছেলে মোঃ শামসুল হক। আরবি বিষয়ের উপর অনার্স নিয়ে পড়ে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নিলামবাজার কলেজে এরাবিক বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বর্ণ পদক অর্জন করলো শামসুল হক(৩১)। সম্প্রীতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শামসুল হকের হাতে শংসাপত্র সহ গোল্ড মেডেল তুলে দেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার চিফ মার্শাল অরুপ রাহা।
 

বহি রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিপুরার কৃষক পরিবারের ছেলের এই সাফল্যে কয়লাশহরের গোটা গ্রাম জুড়ে প্রশংসা রয়েছে। এই বিষয়ে শামসুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তার বাবা একজন সাধারণ কৃষক। ৯ ভাই বোনের পরিবারে শামসুল হক সবার ছোট। কৃষক বাবার পরিবার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিবারে কিছুটা টান পূরণ চলত। কিন্তু তারপরও ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন আপোষ করেননি পিতা আয়াত উল্লাহ। ছেলে-মেয়েদের প্রত্যেককেই ছোট থেকে মাদ্রাসায় এবং স্কুলে ভর্তি করান এবং ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাতেও গুরুত্ব দেন। শামসুল হক ছোট থেকেই মেধাবী ছিলেন।

 
তিনি প্রথমে  কৈলাশহরে টিলা বাজার সিনিয়র মাদ্রাসা (বর্তমানে ফাজিল) থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। তারপরই তিনি চলে যান পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যে। প্রাথমিক স্তর থেকেই তিনি ধাপে ধাপে আরবি শিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি আসামের আহমদ আলী হাই স্কুল থেকে ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি সাউথ করিমগঞ্জ এএমসি সিনিয়র সেকেন্ডারি হাই স্কুল থেকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা নেন। মাঝে তিনি মাদ্রাসা বোর্ড থেকে আরবির উপর আলিম এবং ফাজিল ডিগ্রী অর্জন করেন। একইভাবে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফাজিল ই দেওবন্দ করেন। এরপরে তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিলচর নিলামবাজার কলেজে এরাবিক অনার্স নিয়ে ভর্তি হন এবং বিভাগের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেন।
 
শামসুল হক
 
শামসুল হক বলেন আর্থিকভাবে কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার মাধ্যমে সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। কারণ মাধ্যমিক স্তর থেকেই তিনি নিজের নম্বরের ভিত্তিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্কলারশিপের অধিকারী হন। স্কলারশিপের টাকাতেই তার শিক্ষার অধিকাংশ ব্যয় পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপের টাকাতেই বিএড করছেন পাশাপাশি কৈলাশহর ইরানি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। শামসুল হক কেরালা কালিকট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রফেশনাল ট্রান্সলেশন কোর্সের উপর ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন একইভাবে তিনি এক বছরের বিজনেস একাউন্টিং এর উপরেও ডিপ্লোমা কোর্স করেন।
 
শিক্ষার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন না নামি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষা সহ এরাবিক,ইংরেজি, উর্দু এবং হিন্দি ভাষায় তার বিশেষ দখলদারী রয়েছে। তিনি বলেন ইচ্ছা শক্তি থাকলে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষা একসঙ্গে গ্রহণ করা যেতে পারে।
 
নিজের মানসিক ইচ্ছা থাকলে আর্থিক এবং কোন সামাজিক প্রতিকূলতা শিক্ষায় কখনো বাধা হতে পারে না বলে শামসুল হকের অভিমত। নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার এবং এলাকাবাসীর পাশাপাশি তিনি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানিয়েছেন। কারণ মেধার ভিত্তিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্রছাত্রীদের যে স্কলারশিপ এর সুযোগ দিচ্ছে সেগুলিতেই তিনি নিজের শিক্ষা খরচ বহন করতে পেরেছেন। তার এই সাফল্যের ক্ষেত্রে তার বড় ভাইয়েরও বিশেষ অবদান রয়েছে বলে তিনি জানান।  বর্তমানে তিনি বিএড কোর্স করছেন এবং ইরানি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন।
 
তিনি বলেন আগামী দিনে তিনি এমন কিছু করতে চাইছেন যেখানে তার কঠোর পরিশ্রমের মূল্য স্বীকার করার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ক্ষমতা এবং জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।