ঢাকা ঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি—তিন পরীক্ষাতেই মেধার প্রমাণ দিয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি। তবে কলেজে উঠে মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে ছিলেন।
তবে ফিরেই ‘অনন্য’ হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়। সেইবার অনন্য গাঙ্গুলী হয়েছিলেন সবার সেরা। পরে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
অনন্য গাঙ্গুলী ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও রাধারানী ভট্টাচার্য্য শিক্ষক দম্পতির ছেলে। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
তথ্যমতে, বিজ্ঞান শাখা থেকে প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন ঝিনাইদহের সরকারি কে এম এইচ কলেজের ছাত্র। ওই সময় ঘ ইউনিটের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তার মোট নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫ (মূল পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৯৫)।
সেই তুখোড় মেধাবী শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’র খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়াস্থ নিজ বাসায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নিয়েছেন।
অনন্যর বাবা জানান, তার ছেলে মেধাবী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হতে পারব।’