রমজান মাসে উর্দু স্কুলের সময়সূচি বদল করল কর্ণাটক সরকার

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

বেঙ্গালুরু:

 

কর্ণাটক সরকার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে রমজান মাসে রাজ্যজুড়ে উর্দু-মাধ্যমের প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির স্কুল চলাকালীন সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সংখ্যালঘু তোষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয় ।

 

সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সব সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি উর্দু-মাধ্যম স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান নির্দেশিকা পর্যালোচনা এবং বেঙ্গালুরুস্থিত কর্ণাটক স্টেট প্রাইমারি স্কুল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন (আর)-এর জমা দেওয়া আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

৩০ জানুয়ারির একটি সার্কুলারে (যা সোমবার প্রকাশ্যে আসে) সরকার উল্লেখ করেছে,
“আগে ৩১ অক্টোবর ২০০২-এ জারি করা একটি স্থায়ী নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের উর্দু-মাধ্যমের নিম্ন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশটি নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।”

 

সরকার ৮ মার্চ ২০২৩-এ জারি করা একটি আদেশের কথাও উল্লেখ করেছে, যার অধীনে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে রাজ্য সিলেবাস অনুসরণকারী স্কুলগুলির জন্য একটি অ্যাক্টিভিটি অ্যাকশন প্ল্যান কার্যকর করা হয়েছিল। ওই সার্কুলার অনুযায়ী, নিয়মিত স্কুল সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

তবে রমজান মাস পালন এবং উর্দু-মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য দীর্ঘদিনের বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির জমা দেওয়া আবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়।

এরপর জারি করা আদেশে বলা হয়,“২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের সব সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি উর্দু-মাধ্যমের নিম্ন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রমজান মাস শুরুর দিন থেকে ২০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত স্কুল সময়সূচির এই পরিবর্তন কার্যকর থাকবে।”

এই সময়কালে সংশোধিত স্কুল সময়সূচির বিস্তারিত নির্দেশিকা সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মেনে চলতে হবে বলেও আদেশে জানানো হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে পরমেশ্বর বলেন, এর লক্ষ্য হলো উর্দু-মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের অন্যদের সমান পর্যায়ে নিয়ে আসা।

 

তিনি বলেন,“যদি কেউ সব দিক থেকে আপনার সমান না হয়—যেমন তফসিলি জাতি বা তফসিলি উপজাতি—তাহলে সংবিধান শুরু থেকেই কেন তাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে? কেন অনগ্রসর শ্রেণিকে সংবিধানেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে? এরা হাজার হাজার বছর ধরে অবহেলিত মানুষ। আপনি কি চান না তারা অন্যদের মতো সমান হয়ে একটি সমান সমাজ গড়ে তুলুক?”

 

মন্ত্রী আরও বলেন, স্কুলের সময় পরিবর্তন সরকারের পক্ষ থেকে একটি ছোট উৎসাহ দেওয়ার মতো উদ্যোগ।“যদি সেটাও সহ্য করা না হয়, তার মানে আপনি মানুষের সমান আচরণের বিরোধিতা করছেন,” তিনি মন্তব্য করেন।