কলোরাডো কাঁপাল ভারত! আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্যে আবারও ব্রোঞ্জ ও পিপলস চয়েস জয়

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 20 h ago
আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ভারত দলে, সুহাইল মোহাম্মদ খান, মৃদুল উপাধ্যায় এবং মার্কিন শিল্পী ম্যাট সিলি
আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ভারত দলে, সুহাইল মোহাম্মদ খান, মৃদুল উপাধ্যায় এবং মার্কিন শিল্পী ম্যাট সিলি
 
নয়া দিল্লি 

দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ভারত আবারও নজর কাড়ল, এক সঙ্গে জিতল ব্রোঞ্জ পদক এবং “পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড”। কাশ্মীরি শিল্পী জহুর আহমেদ লোনের নেতৃত্বে গঠিত দলে ছিলেন সুহাইল মোহাম্মদ খান, মৃদুল উপাধ্যায় এবং মার্কিন শিল্পী ম্যাট সিলি। লোনের বাড়ি বারামুল্লার সিঙগাপোরা পাট্টনে, আর সুহাইল খানও কাশ্মীরেরই বাসিন্দা এবং তিনি একজন বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পী। প্রতিযোগিতার অনন্য মুহূর্তগুলো আয়োজকরা তাঁদের সরকারি ওয়েবসাইটে শেয়ার করেছেন।
 
“গরম দেশের মানুষ তুষারের শিল্পে পারদর্শী হতে পারে না”, এই প্রচলিত মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভেঙে দিয়ে ভারতের তরুণ শিল্পীরা, বিশেষ করে তুষারপ্রবণ রাজ্যগুলির বাসিন্দারা, এখন বিশ্বমঞ্চে তুষারশিল্পে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে তুলছেন। এতদিন এই শিল্পকে মূলত পশ্চিম ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও উত্তর আমেরিকার ধনী দেশগুলির ক্ষেত্র বলে ধরা হতো।
 

ভারতীয় দলের ১৬ ফুট উঁচু শিল্পকর্ম “Corn: The Ultimate Domesticator- Who is truly in control?” মানবসভ্যতার ইতিহাসকে ব্যঙ্গ, রসিকতা ও গভীরতার মিশেলে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। ইউভাল নোয়া হারারির Sapiens গ্রন্থ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্পীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ কি সত্যিই ভুট্টাকে গৃহপালিত করেছে, নাকি ভুট্টাই মানুষকে গড়ে তুলেছে? আমাদের কৃষি, খাদ্যাভ্যাস ও ভূদৃশ্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে ফসল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছে এই ভাস্কর্য। দর্শক এবং বিচারকদের একই সঙ্গে হাসিয়েছে ও ভাবিয়েছে শিল্পকর্মটি।
 
চার সদস্যের ভারতীয় দলকে -২৫°C থেকে -৩৫°C তাপমাত্রার মধ্যে টানা চারদিন কাজ করতে হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে টিম স্নো ইন্ডিয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে পরপর দ্বিতীয়বার আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় পদক জিতল। “জুরি এবং জনতার, দুই পুরস্কারই জেতা ভীষণ গর্বের। প্রতিটি তুষারকণা যেন আমাদের দলগত চেতনা, সৃজনশীলতা ও ভারতের শিল্প-প্রাণের গল্প বলে,” মৃদুল উপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান।
 
আন্তর্জাতিক ভাস্কর্য চ্যাম্পিয়নশিপের স্থান
 
জহুর আহমেদ লোন বলেন, কঠিন ঠান্ডা আর সময়সীমার চাপে কাজ করেও ভারতের ভাস্কর্য তার নান্দনিকতা ও নিখুঁত নির্মাণশৈলীর জন্য বিচারক ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পাঁচজন বিচারক ১২টি ভাস্কর্য মূল্যায়নে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেন।
 
প্রতিযোগিতার ফলাফলে প্রথম স্থান (স্বর্ণ) অর্জন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সৃষ্টি “Beauty Beyond Difference: Harmony of Coexistence” দিয়ে। দ্বিতীয় স্থান (রৌপ্য) গেছে মঙ্গোলিয়ার কাছে “Lassoing Time” ভাস্কর্যের জন্য। ভারত তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে “Corn: The Ultimate Domesticator” কাজের মাধ্যমে। ভারত প্রতিযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, কানাডা, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, তুরস্কসহ মোট ১২টি দেশের দলের সঙ্গে।
 
আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ভারত
 
এই অসামান্য অর্জন প্রমাণ করে যে ভারতীয় শিল্পীরা কেবল প্রতিকূলতা জয় করেই নয়, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার জোরে আন্তর্জাতিক তুষারশিল্পের মানচিত্রে নিজেদের দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।