৭৩ বছর বয়সে এমএ পরীক্ষায় সুদর্শন ভট্টাচার্য — প্রমাণ করলেন, শেখার নেই কোনো বয়সসীমা

Story by  Satananda Bhattacharjee | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
৭৩ বছর বয়সে এমএ পরীক্ষায় সুদর্শন ভট্টাচার্য — প্রমাণ করলেন, শেখার নেই কোনো বয়সসীমা
৭৩ বছর বয়সে এমএ পরীক্ষায় সুদর্শন ভট্টাচার্য — প্রমাণ করলেন, শেখার নেই কোনো বয়সসীমা
শতানন্দ ভট্টাচার্য 

পড়াশুনার কোন বয়স নেই। কোন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলে পড়াশুনা করা বা পরীক্ষায় বসা খুবই সাধারণ ব্যাপার। উত্তর প্রদেশের রাজ কুমার যেমন ৯৭ বছর বয়সে অর্থনীতিতে এম এ পাশ করেছিলেন। সম্প্রতি ঠিক এরকমই এক উদাহরণ পাওয়া গেল অসমের বরাক উপত্যকায়। শ্রীভূমি শহরের লঙ্গাই রোডের বাসিন্দা সুদর্শন ভট্টাচার্য ৭৩ বছর বয়সে বসলেন এম এ পরীক্ষায়। বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর আগ্রহ এম এ পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছেন।


পেশায় ছিলেন শিক্ষক এবং পরবর্তীতে শিক্ষা আধিকারিক। বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করলেও পড়াশুনার প্রতি তাঁর আগ্রহ মোটেও কমেনি। শিক্ষকতার সময় তিনি অঙ্ক নিয়ে মাস্টার্স করেছেন, করেছেন এল এল বিও কিন্তু তাঁর দীর্ঘদিনের সখ ছিল বাংলায় এম এ করার। দেরিতে হলেও পরীক্ষায় বসতে পেরে খুবই সন্তুষ্ট বলে জানান সুদর্শনবাবু। কৃষ্ণ কান্ত সন্দিকৈ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি পরীক্ষায় বসেছেন। সুদর্শনবাবুর কাছে স্বপ্নপুরণই আসল কথা। তিনি বলেন, জীবনে চাকরির জন্যে বা প্রমোশনের জন্য পড়াশুনা করছেন না, তিনি পড়াশুনা করছেন নিজের সখ মেটানোর জন্য। কারণ এখন তাঁর নাতি নাতনীরা তাঁর সঙ্গে পড়াশুনা করছে। ওঁদের কাছে পড়াশুনা করে একটা চাকরি পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে কিন্তু তিনি অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই তাই পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করাই সুদর্শনবাবুর লক্ষ্য।

সামাজিক মাধ্যমেও সুদর্শনবাবুর বিষয় নিয়ে ব্যাপক চর্চা হচ্ছে এবং সবাই তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। অনেকেই আবার তাঁকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একজন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "বয়স নয়, ইচ্ছাশক্তিই আসল পরিচয়!৭৩ বছর বয়সে বাংলা বিভাগের এমএ পরীক্ষায় বসে শ্রীভূমি শহরের লঙ্গাই রোডের বাসিন্দা সুদর্শন ভট্টাচার্য গড়ে তুললেন এক অনন্য ইতিহাস।

অদম্য সাহস, জ্ঞানপিপাসা আর শেখার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রমাণ করে—স্বপ্নের কোনো শেষ নেই, বয়স সেখানে কেবলই একটি সংখ্যা।শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন এমন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষকে!"