বাংলাদেশের জমিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় উদ্বেগ বাড়ছে দেশে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 h ago
বাংলাদেশের জমিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় উদ্বেগ বাড়ছে দেশে
বাংলাদেশের জমিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় উদ্বেগ বাড়ছে দেশে
 
বাংলাদেশঃ

বড়লেখা সীমান্তে বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’-এর সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা শিবির থেকে মাহমুদ উল্লাহ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)র সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। সে টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প নম্বর ২৪-এর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, ২১ মার্চ ২০২৬-এ তথ্য পাওয়া যায় যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে সংগঠনের তৎপরতা বৃদ্ধি, অস্ত্র সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের তথ্য মিলেছে। এছাড়া, অস্ত্র সংগ্রহে পাকিস্তান ও তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ফের সক্রিয় ১,৬১১ জঙ্গি, উদ্বেগ বাড়ছে দেশে।সূত্রের খবর, দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তালিকাভুক্ত মোট ১,৬১১ জন জঙ্গি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রধান তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামিনে জঙ্গিদের মুক্তি দেশের জঙ্গিবাদ পুনরুত্থানের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় মোট ১,২৩১ জন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পায়। এরপর সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে আরও ৩৮০ জন মুক্তি পেয়েছে। সব মিলিয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত জঙ্গির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৬১১।এর মধ্যে ১১৪ জন আদালতে হাজিরা দেয়নি এবং ৯৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

 সংগঠনভিত্তিক তথ্য (মুক্তিপ্রাপ্ত ৩৮০ জনের মধ্যে) জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (JMB): ৬৮ জনআনসার আল ইসলামঃ ৭ জন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT): ৪ জন,হিযবুত তাহরীরঃ ৬ জন,নিও-জেএমবি: ৬ জন,হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামী (HuJI): ৪ জন,ইমাম মাহমুদের কাফেলা: ৪ জন,JAFHS: ১৫ জন,অজ্ঞাত পরিচয়: ২৬৫ জন, পলাতক জঙ্গিদের সংখ্যা (মোট ৩৭০)*জেএমবি: ১৮৫ জন,হিযবুত তাহরীরঃ ৫৯ জন,আনসারুল্লাহ বাংলা টিম: ৫৮ জন,আনসার আল ইসলামঃ ২৫ জন,হুজি-বি: ১৬ জন,নিও-জেএমবি: ১৬ জন,ওয়ার্ক দল: ৯ জন,জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া(JAFHS): ১ জন ও ইমাম মাহমুদের কাফেলা: ১ জন।গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
 

 

 

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির দখলে থাকা মানচিত্র

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফের জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের আশঙ্কা?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,মুহাম্মদ ইউনুস এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির পর দেশের পরিস্থিতিতে ফের জঙ্গিবাদী তৎপরতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট ও গ্রেফতারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অনেকাংশে ২০০১–২০০৬ সময়কালের জঙ্গিবাদ বৃদ্ধির সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যখন অতীতে চিহ্নিত কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী = ইসলামী ছাত্রশিবিরের যোগসূত্রের অভিযোগ উঠেছিল।

পাকিস্তান-যোগ নিয়ে জল্পনা সূত্রের দাবি, এক অতিরিক্ত সচিব ও ১১ জন যুগ্মসচিব-সহ মোট ১২ জন কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফরের সরকারি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, তারা ৪ মে-র আশেপাশে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে।জানা গেছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবে পাকিস্তান সরকার। তবে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
 প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেনঃ

১. সালমা সিদ্দিকা মাহতাব — অতিরিক্ত সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
২. মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার — মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
৩. মোঃ আবু রায়হান মিয়া — যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
৪. মোঃ ফিরোজ আহমেদ — যুগ্মসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
৫. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম — যুগ্মসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
৬. মোঃ তৌফিক ইমাম — যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
৭. মোঃ রাইহান আখতার — যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
৮. এ এফ এম এহতেশামুল হক — যুগ্মসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৯. মোহাম্মদ শামসুল হক — যুগ্মসচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ
১০. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম — যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
১১. মোঃ জিল্লুর রহমান — যুগ্মসচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১২. জিয়া আহমেদ সুমন — এমডিএস (যুগ্মসচিব), বিসিএস প্রশাসন একাডেমি
 
 
 
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সকাশে মুহাম্মদ ইউনুস

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার জল্পনা

সূত্রের দাবি, পাকিস্তান সরকারের অর্থায়নে ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি বৃত্তি কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এই প্রকল্পে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা ব্যয় হতে পারে।এছাড়া সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চিন সফরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির ঢাকায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF)-এর আধুনিকীকরণে পাকিস্তান সহায়তা করতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।আরও জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির মধ্যে ১০ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে ।সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসা মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছেঃ

* দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সহযোগিতা শক্তিশালী করা

* “নিয়ন্ত্রিত ডেলিভারি কার্যক্রম” সহ যৌথ অভিযান পরিচালনার সুযোগ

* কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা তথ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়

* বিনিময় হওয়া তথ্য ও নথি গোপন রাখার বিষয়ে উভয় দেশের সম্মতি

এছাড়া সূত্রের খবর, বাংলাদেশে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ওই যুদ্ধবিমানের একটি সিমুলেটর সরবরাহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।জানা গেছে—

* সিমুলেটরের মাধ্যমে পাইলটরা বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন

* যুদ্ধবিমান সরবরাহে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে

* বিমান হাতে পাওয়ার আগেই পাইলটদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে

* সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

  বাংলাদেশে পাকিস্তান ও তুরস্কের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রভাব অতীতের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান নিজ দেশের পরিস্থিতি সামলাতেই হিমশিম খেলেও বাংলাদেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ের খবর নানা মহলে প্রশ্ন তুলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনা থাকতে পারে।সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিয়মিত বৈঠক করছে এবং চলতি মাসেই প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন পাকিস্তানি কর্মকর্তা বাংলাদেশের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

 তুরস্ক-যোগ নিয়েও আলোচনা

বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন।সরকারিভাবে এই সফরকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার অংশ বলা হলেও, বিভিন্ন মহলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রভাব ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

সূত্র অনুযায়ী, তুরস্ক সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেনঃ

* হাফসা বেগম — যুগ্মসচিব
* সাইফুল ইসলাম আজাদ — উপসচিব
* সাবিহা ইয়াসমিন — উপসচিব
* আনিসুর রহমান — উপসচিব
* জাহিদুর রহমান — পরিচালক/উপসচিব
* জিল্লুর রহমান — উপসচিব
* আবদুল্লাহ সাদিদ — সিনিয়র সরকারি সচিব
* আবদুল কাকর বেপারী — অধ্যক্ষ, বরিশাল টেক্সটাইল কলেজ (BTRC)

সূত্রের দাবি, ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই সফর সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে তুরস্ক-যোগ নিয়ে নানা দাবি, বাড়ছে বিতর্ক।সূত্রের দাবি, মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তুরস্ক সরকারের সঙ্গে একটি যৌথ অস্ত্র কারখানা স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেই চুক্তির বিনিময়ে তুরস্ক কিছু শর্ত ও দাবি তোলে বলে জানা গেছে।পরবর্তীতে তারেক নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আলোচনার সময় কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানায় এবং সেগুলি মেনে নেয়নি বলে সূত্রের দাবি।
 

চীনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী

 

গোয়েন্দা সূত্রে উঠে আসা মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

* তুরস্ক বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেল ও এতিমখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেয়
* প্রতিটি এতিমখানার জন্য জমি চাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক এতিম শিশু রাখার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি
* ওই প্রতিষ্ঠানগুলিতে তুরস্কের শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় মতাদর্শ ও আবাসিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ছিল
* এতিমখানা ও টিভি চ্যানেলের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের কথাও উঠে এসেছে
* একটি টিভি চ্যানেল ইসলাম প্রচার এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তথ্যচিত্র ও ধারাবাহিক সম্প্রচারের জন্য নির্ধারিত ছিল বলে জানা গেছে

সূত্র আরও দাবি করছে,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী = ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে এই টিভি চ্যানেল ও এতিমখানার পরিচালনা ও অংশীদারিত্বে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।গোয়েন্দা সংস্থার একাংশের মতে, দেশে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক এতিমখানা ও মাদ্রাসা থাকা সত্ত্বেও এত বড় নতুন প্রকল্প সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর একটি অংশও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বিনিয়োগের আড়ালে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 গোয়েন্দা সূত্রে তুরস্ক-যোগ নিয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি,সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত এতিমখানাগুলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, সাতক্ষীরা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জএলাকায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।যদিও অতীতে তুরস্ক বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম ও রোহিঙ্গা ত্রাণ সহায়তার মাধ্যমে কাজ করেছে, তবে এই নতুন প্রস্তাবকে ভিন্ন ও সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।অভিযোগ উঠেছে যে, ড্রোনসহ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অন্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন সময়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।

এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে, এই এতিমখানাগুলির মাধ্যমে কোনও বিশেষ বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না। সামরিক বাহিনীর একাংশের দাবি, আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (ISI) এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই পরিকল্পনার পেছনে জড়িত ছিল।সূত্রের আরও দাবি, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি নেতিবাচক গোয়েন্দা রিপোর্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। এর পর তুরস্ক সরকার অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে বলেও জানা গেছে।পরবর্তীতে তুরস্ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয় বলে সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে, ১০ মে-র এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে বলে জানানো হয়। আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বহু তুর্কি বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও তুর্কির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদার করে বাংলাদেশে তুর্কি ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বৈঠকে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজিয়ানতেপ, দেনিজলি এবং কোকেলি-ইজমিতের উল্লেখ করেন। তিনি বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।বৈঠকে তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজিয়ানতেপ সংগঠিত শিল্পাঞ্চল(Gaziantep OSB)-এর চেয়ারম্যান চেঙ্গিজ সিমসেক এবং আঞ্চলিক পরিচালক এম. ওজের ওজকান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কোচ গ্রুপের আইগাজ এবং আর্চেলিকের মাধ্যমে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড-এ সফল বিনিয়োগ কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, আরও কয়েকটি বড় তুর্কি সংস্থা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে।সূত্রের দাবি, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর প্রায় ২টায় ঢাকায় রামিস সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে। বাংলাদেশ-তুরস্ক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক,সূত্রের দাবি, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর প্রায় ২টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে পৌঁছায় এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে।

বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছেঃ

* বাংলাদেশ ও তুর্কির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা
* প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি
* সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ
* কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময়

সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হুমায়ুন কবির, যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের পরিচালক।অন্যদিকে তুরস্কের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল কাদের ওজিউরেক, যিনি তুরস্কের সামরিক সম্পর্ক ও কৌশল বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশ-তুরস্ক সামরিক সহযোগিতা ও চিনের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে নতুন আলোচনা।সূত্র অনুযায়ী, ৩০ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ৪র্থ বাংলাদেশ-তুরস্ক আর্মি স্টাফ টকস (AST) অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-এর আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হুমায়ুন কবির এবং তুরস্কের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল কাদের ওজিউরেক।

বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছেঃ

* সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
* প্রশিক্ষণ বিনিময়
* যৌথ সামরিক মহড়া
* কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা

এছাড়া দ্বিতীয় টেন্ডারের আওতায় তুরস্কের ক্যানিক মেটে এসএফ মডেলের ২৭৫টি ৯ মিমি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল কেনার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। জানা গেছে, এই অস্ত্রগুলি শুধুমাত্র প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের জন্য নির্ধারিত এবং এর সঙ্গে ম্যাগাজিন, লেদার হোলস্টার ও পর্যাপ্ত কার্তুজও সরবরাহ করা হবে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘন ঘন প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি আঞ্চলিক ভাব্মান ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

চিনের বাড়তে থাকা কূটনৈতিক সক্রিয়তা


সূত্রের দাবি, আগামী মাসের শুরুতে ঢাকায় ১৪তম বাংলাদেশ-চিন পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে চিনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং ২ এপ্রিল দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) সরকার ক্ষমতায় আসার পর চিনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-ও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।বৈঠকে বাংলাদেশ-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সফরকালে সান ওয়েইডং বাংলাদেশের একাধিক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইয়াও ওয়েন শিক্ষা মন্ত্রী এ.এন.এম. এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।এছাড়া ৬ মে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইয়াও ওয়েন-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি-এর আমন্ত্রণে বিএনপির ২০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চিন সফরে যায় এবং ২১ এপ্রিল দেশে ফেরে।

## বিএনি প্রতিনিধি দলের চিন সফর ঘিরে জল্পনা

সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেনঃ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
* ইসমাইল জবিউল্লাহ
*আলতাফ হোসেন চৌধুরী
* শামসুজ্জামান দুদু
* আসাদুজ্জামান রিপন
*নাজমুল হক নান্নু
* বেবী নাজনীন
*খায়রুল কবির খোকন
* হাবিবুন নবী খান সোহেল
* আশরাফ উদ্দিন উজ্জল
* মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল
* রাশেদা বেগম হীরা
*কামরুজ্জামান রতন
*নিলুফার চৌধুরী মনি
* সাঈদ আল নোমান
* মনোয়ার হোসেন
*সানজিদা ইসলাম তুলি
কামাল আনোয়ার আহমেদ
* ইউনুস আলী
* আমান উল্লাহ আমান
সূত্রের দাবি, ২১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ঋণ নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকা ফিরে দ্রুত চিনে রওনা হন। পরদিন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা “তিতুমীর”-ও হঠাৎ বেইজিং সফরে যান বলে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সফর ভবিষ্যতে চীন কোন কূটনৈতিক অবস্থান নেবে এবং সহযোগিতা তিস্তা নদী প্রকল্পের বাইরে আরও বিস্তৃত হবে কি না, তার ইঙ্গিত বহন করছে।

পরে চিন কৌশলগতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও সূত্রের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার দ্রুত চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

“গোপন সফর: কেন গভীর রাতে হঠাৎ চিনে ছুটলেন ফখরুল ও তিতুমীর?” — এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

## DUCSU প্রতিনিধিদলের চিন সফর ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সূত্র অনুযায়ী, ১৭ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (DUCSU)-এর ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীন দূতাবাসের আমন্ত্রণে এক সপ্তাহের সফরে চিনে যায়।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেনঃ

* ভিপি সাদিক কায়েম
* জিএস এস এম ফরহাদ
* এজিএস মহিউদ্দিন খান
* ফাতেমা তাসনিম জুমা
*ইকবাল হায়দার
* উম্মে সালমা
* জসীমউদ্দিন খান
* মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
*সানজিদা আহমেদ তানভী
* আরমান হোসেন
* আসিফ আবদুল্লাহ
*এবি জুবায়ের
* মাজহারুল ইসলাম
* আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ
*মোঃ জাকারিয়া
 
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তারেক রহামানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বাংলাদেশ পুরোপুরি চিনের প্রভাববলয় থেকে বেরোতে পারেনি। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও আলোচনা রয়েছে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনাও বৃহত্তর চিনা কৌশলের অংশ হতে পারে। একইসঙ্গে বর্তমান সরকার তিস্তা নদী প্রকল্পও চিনের হাতে দিতে আগ্রহী বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

## যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্রিয়তা

সূত্রের দাবি, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খলিল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সেই বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা


সূত্রের দাবি, কয়েক দিন আগে আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (ISI)-এর কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশে আসেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল চিনে তৈরি ড্রোনসহ আট ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া।জানা গেছে, বাংলাদেশ সরাসরি চীন থেকে এই অস্ত্র কিনছে না; বরং একটি পাকিস্তানি সংস্থার মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে “ডাইন” নামের একটি বাংলাদেশি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথাও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিষয়গুলি নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে ডঃ খলিল জানান যে বিষয়টি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং তিনি সে কথাই অবহিত করেছেন।

 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল ২০২৬-এ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চলতি মাসের শেষদিকে ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয় শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কথিত গোপন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
 
 

 বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে নতুন আলোচনা

সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর অন্যতম প্রধান অংশ হচ্ছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। এ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলর পরিসরে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় (DSCU)-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সেনা সদর দফতরে বৈঠক করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আঞ্চলিক প্রোগ্রাম প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মাইকেল রেমবোল্ড।

এছাড়া ২৩ মে ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশর মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিরোধী শিবিরের তরফে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

 GSOMIA ও ACSA চুক্তি নিয়ে জোর জল্পনা

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চুক্তি দুটি হলোঃ

* সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি (GSOMIA)
* অধিগ্রহণ এবং ক্রস-সার্ভিসিং চুক্তি (ACSA)

সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে সামরিক তথ্য বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একইসঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।এছাড়া জ্বালানি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য মার্কিন বাহিনী বাংলাদেশি অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ক্ষমতায় আসার আগে তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু প্রতিশ্রুতিতে পৌঁছাতে হয়েছিল। অতীত সরকারের কর্মকাণ্ডের জেরে তাঁর ওপর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উপরোক্ত দাবিগুলির বহু অংশই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সরকারিভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

 বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিরক্ষা কৌশলে বহুমুখীকরণ নীতির অংশ হিসেবে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে চীন, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল শুধু কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার অংশ নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িত।