কলকাতা
সরকারি খরচ কমানো এবং প্রশাসনিক কাজের গতি আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এবার থেকে দপ্তরের একাংশের আধিকারিকদের জন্য সপ্তাহে একদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে শিক্ষা দপ্তর।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত মোট ন’জন আধিকারিককে রোস্টার পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা দপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবের তরফে সরকারি কাজে ব্যয় সংকোচনের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনপরিষেবায় যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
শিক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “আমরা কর্মসংস্কৃতিকে আরও আধুনিক করতে চাইছি। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচও কমানো হবে। এখন ডিজিটাল প্রশাসন এবং ভার্চুয়াল সমন্বয় সরকারি কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।”
শুধু ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নয়, খরচ কমাতে আরও একাধিক নির্দেশ জারি করেছে দপ্তর। জানানো হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজন না হলে সমস্ত বৈঠক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করতে হবে। অযথা ফটোকপি এবং প্রিন্টিং এড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের।
এছাড়াও সমস্ত ফাইল এখন থেকে ই-অফিস ব্যবস্থার মাধ্যমে চালানো হবে। নতুন কোনও ফিজিক্যাল ফাইল খুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কার পুলিং ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে আলাদা রোস্টার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি সেক্রেটারি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কে।
বিদ্যুৎ খরচ কমাতেও কড়া নির্দেশ জারি করেছে শিক্ষা দপ্তর। সচিবালয় এবং ডিরেক্টরেট অফিসে সন্ধ্যা ৭টার পর অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের গতি বজায় রেখে সরকারি ব্যয় কমানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্য দপ্তরগুলির কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।