কলকাতা
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে চাকরিপ্রার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রতিটি পরীক্ষার্থীর হাতে কার্বন কপি তুলে দেওয়া উচিত। এতদিন ওএমআর ভিত্তিক পরীক্ষা হলেও কার্বন কপি দেওয়া হতো না। আর সেখান থেকেই স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগের জন্ম হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকারের আমলে লাগাতার নিয়োগ দুর্নীতির কারণে দেশের দরবারে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই নতুন সরকারের আমলে সম্পূর্ণ নতুন নিয়োগ নীতি কার্যকর করা হবে। সূত্রের খবর, আগামী বাজেট অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব বিধানসভায় আনা হতে পারে।
রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, মেধা ও স্বচ্ছতাকেই নিয়োগের একমাত্র ভিত্তি করতে চায় সরকার। লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক স্কোর এবং অন্যান্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতিতেও রাশ টানতে চায় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভাইভার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ন্যূনতম নম্বরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে কাউকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।”
প্রসঙ্গত, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পাইয়ে দিয়ে বহু অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ভাইভা প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করার পথে হাঁটছে সরকার।
এদিন সংরক্ষণ নীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এসসি, এসটি, ওবিসি এবং বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সংবিধানসম্মত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি। নতুন সরকার সেই সমস্ত অনিয়ম দূর করে সংবিধান মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে বহুচর্চিত ‘২৬ হাজার চাকরি’ মামলার প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ফলে গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছিল। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনা দেখে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলিও নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ‘দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ’কে সামনে রেখেই নতুন কর্মসংস্থান নীতির বার্তা দিতে চাইল রাজ্য সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের গ্যারান্টি দিয়ে কার্যত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরেই আশ্বাস শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।