মতুয়াদের মনের আশঙ্কা দূর করতে 'মোদীর গ্যারান্টি'!নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
মতুয়াদের মনের আশঙ্কা দূর করতে 'মোদীর গ্যারান্টি'!নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী
মতুয়াদের মনের আশঙ্কা দূর করতে 'মোদীর গ্যারান্টি'!নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী
 
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
 
ঠাকুরনগরে মতুয়াদের পীঠস্থানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী ডাক দিলেন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের।মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দিয়ে দিলেন 'গ্যারান্টি'। মোদী বললেন, 'আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব।' মতুয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা পাবেন, ভারতীয় নাগরিকদের যেসব নথি থাকা দরকার সবই পাবেন, এটা মোদীর গ্যারান্টি।'
 
রবিবার ঠাকুরনগরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে মতুয়াদের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা ঝরে পড়ল তা নজর কেড়েছে অনেকেরই। বক্তব্যের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের ওড়াকান্দি সফরের স্মৃতিচারণ করে ফেলেন। মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের পুণ্যভূমিতে কাটানো সেই সুন্দর মুহূর্তগুলো তাঁর স্মৃতিতে কীভাবে গেঁথে আছে, এদিন সকলের সামনে তা তুলে ধরলেন। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে ‘বড়মার’ আশীর্বাদ নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বোঝালেন মতুয়াদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আবেগের। মোদীর মুখে মতুয়াদের জন্য নাগারিকত্বের গ্যারান্টি শোনার পর সকলেই হরিবোল হরিবোল বলে লাফিয়ে ওঠেন।
 
প্রধানমন্ত্রী এদিন মতুয়া আশঙ্কা নির্মূল করতে নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি করেন। তৃণমূলের যাবতীয় অপপ্রচার নস্যাৎ করে তিনি ঘোষণা করেন, মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা পাবেন। সিএএ নিয়ে তৃণমূলের বিরোধিতাকে পাল্টা দিলেন তিনি। এদিনের জনসভা থেকে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলে দিলেন, নতুন ভারতের মূল স্রোতে মতুয়াদের শামিল করা এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।
 
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বীরত্বকে তুলে ধরে বলেন, এই রাজ্যের ভোটাররা বিজেপিকে ভোট জেতালে এই বাংলা জঙ্গলরাজ, দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্তি পাবে। কৃষকদের কল্যাণে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দ্বিগুণ করার প্রসঙ্গ টেনে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাংলার মানুষকে। মোদী দাবি করে বললেন, বাংলার সামর্থ্য আছে দেশের এক নম্বর রাজ্য হওয়ার। 
 
প্রথম দফার ভোট নিয়ে মোদী বলেন, তৃণমূলের যে অহঙ্কার ছিল তা ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে এবার বাংলা পরিবর্তনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে। অনুপ্রবেশকারীদের রুখে দিতে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ভূমিপুত্রদের অধিকার রক্ষায় বিজেপি সরকার সবসময় থাকে আপসহীন। 
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এদিনের প্রায় প্রতিটি কথাই ছিল যেন অবহেলিত জনজাতির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতিফলন। তাঁর কথায় এদিন যে আত্মবিশ্বাসের সু ফুটে উঠেছে তাতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সব মিলিয়ে, ঠাকুরনগরের এই সভা থেকে মোদী যে গ্যারান্টি দিলেন তা সোনার বাংলা গড়ার পথ হয়ত আরও মসৃণ করে তুলবে।