‘জিরো টলারেন্স’ ধাক্কায় রাতের ঘুম উধাও! ‘ডিটেনশন’ ভয়ে বাংলা ছেড়ে বাংলাদেশে পালানোর হিড়িক সীমান্তে

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
AI জেনারেটেড ছবি
AI জেনারেটেড ছবি
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

রাজ্যে পালাবদল হতেই অনুপ্রবেশকারীদের ‘সুদিন’ শেষ হতে চলেছে। তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহাকুমার স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর চেকপোস্টে। দলে দলে  মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন দেশের সীমান্তে। এই মানুষগুলের লক্ষ্য একটাই, কোন সমস্যায় পড়ার আগে যে উপায়েই হোক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারলেই শান্তি। যারা ওপারে ফিরতে চেয়ে ভিড় জমাচ্ছেন তাদের সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের। কিন্তু হঠাৎ কেন এই তাড়াহুড়ো?
 
সীমান্তে খোঁজখবর করতেই জানা গেল, ‘ডিটেক্টড ডিফল্ট হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন সেন্টার সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হতেই ওপারে ফেরার হিড়িক পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক কড়া বার্তা পর যেন এই মানুষগুলোর মধ্যে ‘আতঙ্ক’ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে, আর বিএসএফ তাদের পুশব্যাক করবে। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরই তল্পিতল্পা গুটিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে চম্পট দেওয়ার হিড়িক লেগে গেছে।
 

সীমান্তে ভিড় জমানো বাংলাদেশিরা জানালেন, বহু বছর ধরে আমরা কেউ কলকাতায় রাজমিস্ত্রি তো কেউ ফ্ল্যাটে পরিচারিকার কাজ করছি। কোনোদিন কেউ কিছু বলেনি এমন করে। কিন্তু এখন লোকমুখে শুনছি পুলিশ ধরে নিলে সোজা ডিটেনশন সেন্টারে পুরে দেবে। তার চেয়ে নিজের দেশে ফিরে যাওয়াই ভালো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আতঙ্কিত বাংলাদেশি যুবকের গলায়ও স্পষ্ট ধরা পড়ল ভয়ের ছাপ।
 
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চেকপোস্টে জড়ো হওয়া শতাধিক নারী-পুরুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই উৎকণ্ঠার ছাপ। খোঁজ করতেই জানা গেল, কেউ এসেছেন কলকাতার অজপাড়াগাঁ থেকে, কেউ বা উত্তর ২৪ পরগনারই কোনো ডেরা থেকে। কেন এই ভারতে প্রবেশ? উত্তরে তাঁরা স্বীকার করে নিচ্ছেন, স্রেফ দু-মুঠো পেটের ভাতের জোগাড় করতে কাঁটাতার গলে এপাড়ে এসেছিলেন। কাজের খোঁজে তারা এতদিন ধরে রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস বা জেলার নানা প্রান্তে থেকে গিয়েছেন। বছরের পর বছর নির্বিবাদে কাটিয়ে দিতে পারলেও এবার রাজ্যে পালাবদলের পর ভোল বদলেছে প্রশাসনের। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যেন রাতের ঘুম উড়িয়েছে ওপার বাংলার এই সংখ্যালঘুদের।
 
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা আসলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন সরকারের কঠোর প্রশাসনিক সদিচ্ছারই প্রতিফলন। আইন অমান্য করে আর যে ভারতে আত্মগোপন করে থাকা যাবে না তা হয়ত বুঝে গেছেন এই অনুপ্রবেশকারীরা। ফলে আইনি জটিলতা বা ডিটেনশন সেন্টারের বিষয় পর্যন্ত আসার আগেই ‘সেফ প্যাসেজ’ খুঁজে নিজের দেশে অর্থ্যাৎ বাংলাদেশে ফিরতে মরিয়া তাঁরা। হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক দেখে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে নানা চর্চা।