২১-এর ‘পাপের’ ২৬-এ প্রায়শ্চিত্ত! হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল নেতারা, নোটের বান্ডিল গুনে ‘কাটমানি’ ফেরত দিতে হল
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বীরভূমের মাটিতে দেখা গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসতেই বিজেপি করার 'অপরাধে' কর্মীদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয়েছিল জরিমানা। কেউ ১০০০০ তো কেউ ২৫০০০ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০২৬-এ তৃণমূল ক্ষমতা হারাতেই সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। বীরভূমের পাড়ুই থানার সুন্দিপুর গ্রামে দেখা গেল সেই দৃশ্য।
রীতিমতো তালিকা মিলিয়ে নোটের বান্ডিল হাতে ধরে টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূল নেতা। টাকা ফেরত দিয়ে জনসমক্ষে হাতজোড় করে ভুল স্বীকারও করলেন সেইসব তৃণমূল নেতারা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ২১-এর নির্বাচনের পর তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা দিয়ে তবেই নিজেদের ঘরে ফিরতে পেরেছিলেন তাঁরা। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে পালাবদল হতেই ৫ বছর পর সেই টাকা ফেরত পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে গরিব মানুষগুলোর।
টাকা ফিরে পেয়ে বিজেপি কর্মীরা বলেন, ২০২১ সালে তৃণমূল নেতারা আমায় ঘিরে ধরেছিল। শেষে হাতে-পায়ে ধরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পেয়েছিলাম। আজ সেই টাকা ফেরত পেলাম। আর এক কর্মী জানান, ২০২১ সালে বিজেপি করার অপরাধে আমার থেকে ১০ হাজার টাকা জোর করে আদায় করেছিল এরা। আজ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় জোর করে নিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পেলাম। এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম।
অত্যাচারী তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বিবাদ মীমাংসা
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা টাকা ফেরত দিয়ে অপরাধ স্বীকার করে বলেন, টাকা লেনদেন ছিল, সেসব ফেরত দিয়ে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অন্য এক তৃণমূল নেতা রীতিমতো হাতজোড় করে বলতে থাকেন, দয়া করে সব ভুল আমাদের ক্ষমা করে দিন। এরকম ভুল আর করব না। জানা যায়, সুন্দিপুরের ৮ জন মানুষকে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ মে বীরভূমের নানুরেও একই ছবি দেখেছিল বাংলার মানুষ। কোচবিহারের দিনহাটাতেও আবাসের কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে আছড়ে পড়েছে গণক্ষোভ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই পরিবর্তন দেখে খুশি হচ্ছেন তৃণমূল বিরোধী মানুষজন। গরিবের লুঠ হওয়া টাকা যেভাবে ফেরত আসছে, তাতে রাজ্যের এই পরিবর্তন দেখে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছেন আমজনতা।