মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত ও ‘বন্দেমাতরম’ বাধ্যতামূলক: নতুন সিদ্ধান্তে বদলের ইঙ্গিত পালা বদলের বাংলায়
দেবকিশোর চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত। রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় এবার থেকে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দেমাতরম’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নবান্নে এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো মাদ্রাসাগুলিতেও জাতীয় সংগীত এবং ‘বন্দেমাতরম’-এর মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। কোনও মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল সরকারের আমলে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে স্বাধীনতা বজায় ছিল। শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি নতুন প্রশাসনিক অবস্থানকে সামনে আনছে।
বিজেপি সমর্থকদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জাতীয় নীতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বহু মানুষ মনে করছেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত রাজ্যে প্রশাসনিক দৃঢ়তার ভাবমূর্তি তৈরি করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলছে।
অন্যদিকে বিরোধী মহলের অভিযোগ, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, মাদ্রাসাগুলির নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। যদিও সরকারপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় সংগীত বা ‘বন্দেমাতরম’ কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি দেশের ঐক্য ও সম্মানের প্রতীক।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে এখন রাজ্যের বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার দিকেও নজর রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয় এবং সমাজে তার কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।