শতাধিক শিক্ষামূলক অ্যাপ গড়ে অনন্য নজির রাজস্থানের শিক্ষক ইমরান খানের

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
শতাধিক শিক্ষামূলক অ্যাপ গড়ে অনন্য নজির রাজস্থানের শিক্ষক ইমরান খানের
শতাধিক শিক্ষামূলক অ্যাপ গড়ে অনন্য নজির রাজস্থানের শিক্ষক ইমরান খানের
 
আর্সালা খান / নয়াদিল্লি

পরিবর্তন আনতে যে সবসময় বিপুল অর্থ-সম্পদ বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয় না, তারই এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন হলেন মহম্মদ ইমরান খান মেওয়াতি। রাজস্থানের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক সাধারণ কৃষকের সন্তান থেকে ১০০-রও বেশি শিক্ষামূলক অ্যাপ তৈরি করা পর্যন্ত তাঁর এই যাত্রা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি শুধু একজন শিক্ষকের সাফল্যের কাহিনি নয়, এটি এমন এক শিশুর গল্প, যে নিজের গ্রামের বিদ্যালয়ে সম্পদের অভাব দেখে একদিন দৃঢ় সংকল্প নিয়েছিল যে, যেসব শিশুর কাছে ভালো বিদ্যালয়, বই এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই, তাদের কাছে সে শিক্ষা পৌঁছে দেবে।
 
গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের শিক্ষাজীবনে ইমরান খান শিক্ষাকে শুধু বই ও ব্ল্যাকবোর্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি প্রযুক্তিকে গ্রামের শিশুদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, ১০০-রও বেশি শিক্ষামূলক অ্যাপ তৈরি করেছেন, হাজার হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং লাখ লাখ শিশুর জন্য শিক্ষাগ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলার চেষ্টা করেছেন।
 
ইমরান খান মেওয়াতি
 
বর্তমানে রাজস্থানের সংস্কৃত শিক্ষা দফতরে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত মহম্মদ ইমরান খান মেওয়াতির যাত্রা প্রমাণ করে যে, ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে সীমিত সম্পদ কখনও পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
 
নবম শ্রেণি থেকেই শুরু হয়েছিল শিক্ষকতার যাত্রা
 
ইমরান খান একটি সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে এসেছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাই অল্প বয়সেই তিনি নিজের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তিনি ছোট ছেলে-মেয়েদের টিউশন পড়াতে শুরু করেন, যাতে পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারেন।
 
এখান থেকেই তাঁর মনে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা আরও প্রবল হয়ে ওঠে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার নানা ত্রুটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সম্পদের অভাব, দুর্বল পরিকাঠামো এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি তাঁকে সবসময় ভাবিয়ে তুলত। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, কখনও সুযোগ পেলে তিনি শিক্ষার এই চ্যালেঞ্জগুলি দূর করার জন্য কাজ করবেন।
 
১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল পরিবর্তনের ধারা
 
১৯৯৯ সাল থেকে ইমরান খান ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়াতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর কাছে শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যক্রম শেষ করা ছিল না। শিশুদের জন্য পড়াশোনাকে কীভাবে সহজ, আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে তোলা যায়, সেই বিষয়ে তিনি নিরন্তর চিন্তা করতেন।গ্রামাঞ্চলের শিশুদের সামনে সবচেয়ে বড়  চ্যালেঞ্জ ছিল উন্নত শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক সম্পদের অভাব। ইমরান খান এই চ্যালেঞ্জকেই নিজের শক্তিতে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন।
 
প্রথমবার কম্পিউটার দেখার পরই শুরু হয়েছিল প্রযুক্তির যাত্রা
 
২০০৮ সালে ইমরান খান জীবনে প্রথমবার কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এর পর থেকেই তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি নিজে নিজেই প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে শুরু করেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার পর তিনি হিন্দি ভাষায় অফলাইন শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করতে শুরু করেন, যাতে ইন্টারনেটের সুবিধা নেই এমন গ্রামাঞ্চলের শিশুরাও পড়াশোনা করতে পারে।
 
ধীরে ধীরে তাঁর এই ছোট উদ্যোগ একটি বৃহৎ ডিজিটাল মিশনের রূপ নেয়। তিনি ১০০-রও বেশি শিক্ষামূলক অ্যাপ তৈরি করেন, যেগুলি গুগল প্লে স্টোরে বিনামূল্যে উপলব্ধ করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে এই অ্যাপগুলি লাখ লাখ বার ডাউনলোড করা হয়েছে।
 
ইমরান খান মেওয়াতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে
 
শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য ও সমাজ উন্নয়ন পর্যন্ত
 
ইমরান খানের অ্যাপগুলি শুধু বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও ডিজিটাল সামগ্রী তৈরি করেছিলেন। তাঁর প্রকল্পগুলির মধ্যে ‘প্রজেক্ট দিশারি’, সাধারণ বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস এবং ভূগোলের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
তিনি গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ‘ম্যাটারনাল কেয়ার অ্যাপ’-ও তৈরি করেন। এছাড়াও যুবসমাজ এবং সামাজিক সচেতনতার জন্য ‘যুব শক্তি অ্যাপ’ এবং ‘ডিজিটাল মেওয়াত অ্যাপ’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রযুক্তির প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যায়, যখন তা সমাজের সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়, যার হাতে সম্পদের অভাব রয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসা ও জাতীয় স্বীকৃতি
 
ইমরান খানের এই মহৎ কাজ জাতীয় স্তরেও স্বীকৃতি লাভ করে। তাঁর শিক্ষামূলক অ্যাপ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইমরান খান তাঁর শিক্ষামূলক অ্যাপগুলি ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের কাছেও উপলব্ধ করে দেন। সম্পদের অভাব থাকা একটি গ্রামীণ বিদ্যালয় থেকে পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করা একজন শিক্ষকের জন্য এটি ছিল এক বড় সাফল্য।
 
পুরস্কার তাঁর কাছে চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না
 
শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য ইমরান খানকে বেশ কয়েকটি সম্মানজনক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার, জাতীয় আইসিটি পুরস্কার এবং শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য জামনালাল বাজাজ পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পুরস্কার কখনও তাঁর কাছে চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। তাঁর প্রকৃত লক্ষ্য সবসময় একটাই ছিল, গ্রামের কোনো শিশুকেই যেন সম্পদের অভাবে উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।
 
বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলি শিকড় থেকে বুঝতে পারা একজন শিক্ষক
 
ইমরান খানের কাজ শুধু অ্যাপ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলির সেই সমস্যাগুলির উপরও কাজ করেছেন, যেগুলির কারণে শিশুদের শিক্ষাগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হত। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের অনুপস্থিতি, ছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য, দুর্বল পরিকাঠামো এবং সম্পদের অভাবের মতো চ্যালেঞ্জগুলি তিনি খুব কাছ থেকে অনুভব করেছিলেন।
 
মাল্টি-গ্রেড শ্রেণিকক্ষে তিনি ‘পিয়ার টিচিং’ অর্থাৎ শিশুদের দিয়ে শিশুদের পড়ানোর পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন। দলভিত্তিক প্রজেক্ট লার্নিংয়ের মাধ্যমে তিনি ছাত্রছাত্রীদের শুধু শ্রোতা হয়ে থাকার পরিবর্তে শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
 
ইমরান খান মেওয়াতি
 
কোভিড মহামারিতে হাজার হাজার শিক্ষককে সাহায্য
 
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন বিদ্যালয়গুলি বন্ধ হয়ে গেল এবং শিক্ষা ব্যবস্থা হঠাৎ অনলাইন জগতে প্রবেশ করল, তখন লাখ লাখ শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই সময় ইমরান খান ‘লেটআসটকএডুকেশন’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষককে অনলাইন শিক্ষাদান এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি সংস্কৃতের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য ‘দেববাণী অ্যাপ’ তৈরি করেন। ভিডিও, ই-বুক এবং ইন্টার‌্যাক্টিভ সামগ্রীতে সমৃদ্ধ এই অ্যাপটি বর্তমানে ৬০ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে গেছে।
 
বিদ্যালয়কে করে তুলেছিলেন পরীক্ষাগার
 
ইমরান খান বিশ্বাস করেন যে শিশুরা শুধু বই থেকেই শেখে না। এই চিন্তা থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের মডেল তৈরি করান, শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান দেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্প শুরু করেন।
 
বিদ্যালয় চত্বরে প্রায় ২০০টি গাছের চারা দিয়ে একটি ‘মিয়াওয়াকি বাগান’ গড়ে তোলা হয়। বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তিনি জল সংরক্ষণের ধারণাকে গণিতের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করার মতো পরীক্ষাও চালিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাঁর কাছে শিক্ষার অর্থ শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়, বরং শিশুদের বাস্তব জগতের সমস্যাগুলি বোঝার জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
 
সমাজকে একত্রিত করে বিদ্যালয়ের রূপ বদল
 
ইমরান খান উপলব্ধি করেছিলেন যে একজন শিক্ষক একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। তাই তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় সমাজকে যুক্ত করেন। স্থানীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করে তিনি বিদ্যালয়ের সংস্কার ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য তাঁদের সংগঠিত করেন।
 
এর প্রভাব বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং নামভর্তির, দুই ক্ষেত্রেই পড়ে। তিনি ‘মস্তি কি পাঠশালা’-র মতো কর্মসূচিও শুরু করেন, যেখানে শিশুদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং কেরিয়ার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাও দেওয়া হত।
 
আমেরিকা থেকে অর্জন করা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা
 
ইমরান খান ‘ফুলব্রাইট ডিস্টিংগুইশড অ্যাওয়ার্ড ফেলো’ হিসেবে আমেরিকায় আয়োজিত একটি সেমিস্টারের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে ১৬টি দেশের ৫১ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছিলেন।
 
সেখানে অর্জিত বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের শিক্ষাদান পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি একবিংশ শতাব্দীর দক্ষতা, বৈশ্বিক নাগরিকত্ব এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকদের জন্য আইসিটি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপ তৈরির বিষয়েও গবেষণা করেন।
 
ইমরান খান মেওয়াতি
 
লাখ লাখ শিশুর কাছে পৌঁছে গেল সর্বাঙ্গীণ শিক্ষার প্রচেষ্টা
 
ইমরান খান শিক্ষকদের জন্য আইসিটি ইন্টিগ্রেশন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে মাস্টার ট্রেনার হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিদ্যালয়গুলিতে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের শনাক্ত করতে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয়তাগুলি বুঝতে তৈরি করা ‘প্রশাস্ত অ্যাপ’-এর ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এই উদ্যোগ লাখ লাখ শিশুর মধ্যে সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা (ইনক্লুসিভ এডুকেশন) প্রসারের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।
 
প্রযুক্তি ও প্রেরণার এক জীবন্ত নিদর্শন
 
মহম্মদ ইমরান খান মেওয়াতির জীবনগাথা আমাদের শেখায় যে পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় বড় অট্টালিকা, কোটি কোটি টাকা বা বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও পরিবর্তনের সূচনা হয় একজন শিক্ষকের হাত ধরে... এমন একজন শিক্ষক, যিনি নবম শ্রেণিতে থাকতেই অন্যদের পড়াতে শুরু করেছিলেন; যিনি প্রথমবার কম্পিউটার ব্যবহার করা শেখার পর নিজে নিজেই প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করে লাখ লাখ মানুষের জন্য শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করেছিলেন। গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের সমস্যাগুলি দেখে তিনি নীরব থাকেননি, বরং সেটিকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
 
আজ তাঁর কাহিনি শুধু একজন শিক্ষকের সাফল্যের কাহিনি হয়ে নেই। এটি সেই মানসিকতার জয়গান, যা প্রমাণ করে, শিক্ষাকে সঠিক প্রযুক্তি, সঠিক চিন্তা এবং সঠিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হলে একটি গ্রামের ছোট শ্রেণিকক্ষ থেকেও সমগ্র বিশ্বে পরিবর্তনের ঢেউ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। মহম্মদ ইমরান খান মেওয়াতি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে একজন শিক্ষক শুধু ছাত্রছাত্রীদের পড়ান না... তিনি নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেন, সমাজকে একত্রিত করেন এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করেন।