কচুয়া ধামে সম্প্রীতির অনন্য নজির! লোকনাথ বাবার আবির্ভাব তিথিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুণ্যার্থীদের সেবায় নামল সব ধর্মের মানুষ
তরুণ নন্দী, কলকাতা
কথায় বলে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের কচুয়া ধামে পুণ্যার্থীদের সেবায় সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেল। জন্মাষ্টমী ও বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে কচুয়া লোকনাথ ধামে দেখা গেল রাতভর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম। উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই ভক্তদের সেবা করতে ধর্মের ভেদাভেদকে সরিয়ে ফেলে একসঙ্গে এগিয়ে এলেন হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। জন্মাষ্টমীর দিনে লোকনাথবাবার ভক্তদের ভক্তি ও প্রার্থনার এই মহামিলনে হাড়োয়া তুলে ধরল সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন।
দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে আসা পুণ্যার্থীদের একটু সেবা করতে হাড়োয়া ১ নম্বর মণ্ডল বিজেপির পক্ষ থেকে বিশেষ জলছত্র ও মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্যটি দেখা গেল সেবার প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্লান্ত পুণ্যার্থীদের হাতে পানীয় জল ও ফল তুলে দিতে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম ভাই-বোনেরা।
বলা ভালো, ধর্মের পার্থক্য ভুলে এদিন যেন সকলেই সম্প্রীতির এক সুতোয় বাঁধা পড়েছিলেন। লাখো লাখো পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হাড়োয়া থানার পুলিশ প্রশাসন ছিলেন সজাগ। তাদের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের।
রাতের অন্ধকারে বাকে করে জল নিয়ে কচুয়া ধামে আসতে ভক্তদের যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আলোর ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মত। পথেই এক পুণ্যার্থী হঠাৎ অসুস্থ হতেই জরুরী ভিত্তিতে তাঁকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সবমিলিয়ে এদিনের ব্যবস্থাপনা দেখে উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গেল পুর্নার্থীদের।
অনেকেই বললেন, লোকনাথ বাবার মানবসেবার আদর্শকে পাথেয় করেই যেন এদিনের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল সকল ধর্মের মিলনক্ষেত্র। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মধ্যে এই পারস্পরিক সহমর্মিতা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।