পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রেরণাদায়ী ১০ জন মুসলিম পরিবর্তনকারী

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 11 h ago
পশ্চিমবঙ্গের  পরিবর্তনসাধকরা
পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনসাধকরা
 
কলকাতা

বাংলার মাটিতে বিদ্যা, সাহিত্য আর বিতর্কের ঐতিহ্য বহুকাল ধরে রচিত হয়ে আসছে। সঙ্গীত, কবিতা, চলচ্চিত্র, নাটক, চিত্রকলার পাশাপাশি সমাজসেবার প্রতি গভীর অনুরাগও এই অঞ্চলের মানুষের পরিচয়। এই সমৃদ্ধ মূল্যবোধের ধারা আজ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে মুসলিম সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা পরিবর্তনসাধকদের অবদানে।
 
সাত্তার মাস্টার:
 
জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করেছেন শিক্ষার পিছনে। জলঙ্গী ব্লকের এমনই একজন শিক্ষা অন্ত প্রাণ মানুষ হলেন আব্দুস সাত্তার। পরিচিত মহল এবং জলঙ্গী-ডোমকল-ইসলামপুর সহ আশপাশের বহু অঞ্চলে তিনি সাত্তার মাস্টার নামেই পরিচিত।
 
আব্দুস সাত্তার 
 
তবে শুধু নাম-মহাত্ম্যেই একজন মানুষ মহৎ হতে পারেন না, যদি না তাঁর মধ্যে মানবিকতার ছিটেফোঁটাও থাকে। আব্দুস সাত্তার মানুষের কাছে  সাত্তার মাস্টার  হতে পেরেছেন তাঁর মহৎ গুণাবলীর জন্যই।
 
মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
 
মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সাহসী দল সর্বস্তরে শিক্ষা বিস্তারের আপাত কঠিন পথটি বেছে নেয়। একেবারে প্রতিকূল স্রোত, যেখানে আগে কেউ হাঁটেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট বছরের পর বছর ধরে পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও শিক্ষিত সমাজে রূপান্তর করা।
 
মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম 
 
এই মিশনের লক্ষ্য শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগতমান এবং উৎকর্ষতা অর্জন করা। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা। ন্যায্যতা, সমতা, সাম্য ও স্বচ্ছতার নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়া।
 
ইমারন নাহার
 
জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত রূপকথার গল্প মালা। হারিয়ে যাওয়া সেইসব শ্রুতি কথার গল্পমালা সংগ্রহ করছেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া ব্লকের নীরব সংগ্রাহক ইমারন নাহার। প্রায় পাঁচ শতাধিক রূপকথার গল্প তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে লিপিবদ্ধ করেছেন। নব্য শিক্ষিত সমাজের উপেক্ষা ও উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার হাজার হাজার প্রচলিত প্রবাদ প্রবচন।
 
ইমারন নাহার 
 
এক সময় যা মুখে মুখে ফিরতো। বাংলা প্রবাদ প্রবচনের বিপুল ভাণ্ডারের কিছু অংশ অবশ্যই স্থান পেয়েছে ব্যাকরণ বইতে। অধিকাংশই ছিল শ্রুতি নির্ভর। যা কেবল লোক মুখেই প্রচলিত ছিল। তিন হাজারেরও বেশি বিলুপ্তপ্রায় বাংলা প্রবাদ প্রবচন বহু কসরত করে উদ্ধার করেছেন কবি ও সংগ্রাহক ইমারন নাহার।
 
গোলাম ফারুক
 
সমাজকর্মী গোলাম ফারুকের আন্তরিক উদ্যোগেই মানব কল্যাণের ব্রত নিয়ে পথ চলা শুরু।মানব কল্যাণে প্রশংসনীয় কাজ করে চলেছে সমাজকর্মী গোলাম ফারুকের রাইটস ফর অল মহানগরকে আবর্জনা মুক্ত করতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে স্বচ্ছ কলকাতা অভিযান।
 
গোলাম ফারুক 
 
আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের সহায়তায় একটি মাদক বিরোধী অভিযানের আয়োজন।সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের। সেই শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণের ব্যবস্থা করা। সকলের জন্য অধিকার ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি এবং মানবিক মর্যাদার আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে গোলাম
ফারুক ।
 
হাফিজুর রহমান
 
মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সম্পাদক হাফিজুর রহমান। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মেয়েরা যেমন তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে, তেমনই উভয় সম্প্রদায়ের দুঃস্থ-অসহায় মেয়েদেরই সেলাই মেশিন দান করেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথিকৃত হাফিজুর রহমানের সংস্থা। হাফিজুর রহমান এই পর্যন্ত করেই হয়তো ক্ষান্ত দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো আর বসে থাকার মানুষ নন। ফলে আরও অসংখ্য ভাবনাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন কাজপাগল এই মানুষটি। তাঁরই উদ্যোগে প্রতি ইংরাজি মাসের শেষ রোববার তাঁদের সংস্থার সামনের ঘরে ডাক্তার বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা ইত্যাদির পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয় সংস্থার পক্ষ থেকে। 
 
হাফিজুর রহমান 
 
এছাড়াও আশপাশের অঞ্চলের কাউকে যেন পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে বাইরের রাজ্যে কাজে যেতে না হয়, বিকল্প শিল্পের ব্যবস্থা করে তাদের যাতে কাজ দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনাও চালাচ্ছেন লক্ষ্মীগাছা জনকল্যাণ সংস্থার সম্পাদক হাফিজুর রহমান ।
 
হালিমা খাতুন
 
হালিমা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ বিশেষ করে নারীর উন্নতির জন্য কাজ করতে শুরু করেন। তিনি সেই সব নারীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে এগিয়ে আসেন যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথম তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল সুন্দরবন এলাকার মৎস্যজীবী মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি এই মহিলাদের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেন এবং ক্রমাগত তাদের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে যান। সমাজের উন্নয়নে বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া নিম্ন বিত্ত মানুষের জন্য হালিমা ও তাঁর সংগঠন নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে। তাঁদের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৭০০ জন বিড়ি শ্রমিক নিজেদের পরিচয়পত্র পেয়েছেন। হাসনাবাদ হিঙ্গলগঞ্জ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগণের একটা বড় অংশই বিড়ি শ্রমিক। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক পান অত্যন্ত সামান্য। যার ফলে দৈনন্দিন জীবন যাপন পরিবার প্রতিপালন সব ক্ষেত্রেই জড়িয়ে আছে তুমুল দারিদ্র।
 
হালিমা খাতুন 
 
অভাবের জায়গা থেকেই অনেক সময় অল্প বয়সি মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হন বাবা মায়েরা। তাদের কারো কারো ধারণা বিয়ের পর যদি অভাবি পরিবারের মেয়ে স্বামীর ঘরে গিয়ে একটু আধটু পুষ্টিকর খাবার পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়। কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের রুখতে এই হালিমাকে অনেকেই দাবাং এর সঙ্গে তুলনা করেন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কত বিয়ে যে রুখে দিয়েছেন তিনি।
 
শেখ বাহারুল ইসলাম
 
সজাগ মঞ্চের বর্তমান ও প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক শেখ বাহারুল ইসলামের কথায়, সজাগ মঞ্চ গুটি গুটি পায়ে ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি বছর। এই কয়েকটি বছরে মঞ্চের কাজের ফিরিস্তি দিতে গেলে গোটা একটা বই হয়ে যাবে। সজাগ মঞ্চ গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাহারুল বলেন, সমাজসেবী সংগঠন তো অনেক আছে। তাহলে নতুন করে আবার এমন একটা সংস্থা তৈরির দায় পড়ল কেন? আসলে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, হয়রানি, অসহায়তা আমাদের হৃদয়কে বিক্ষত করে তোলে বারংবার। সেই দায়বোধ থেকেই একটু হলেও যদি মানুষের কাজে এগিয়ে আসতে পারি, তার জন্যই সজাগ মঞ্চ  গড়ে তোলা।
 
শেখ বাহারুল ইসলাম 
 
তিনি বলেন, দায়বোধের চিন্তা করলে বেশিরভাগ এনজিও বা সমাজসেবী সংস্থাগুলো ফুলেফেঁপে উঠত না। নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত তারা। আর এখানেই ব্যতিক্রম  সজাগ মঞ্চ। নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করার দুঃসাহস দেখিয়েছি বলেই আমরা আজ সর্বজনপ্রিয়। নিঃস্বার্থ মানবসেবার তাগিদকে পাথেয় করেই তাই উল্কার গতিতে ছুটে চলেছে আমাদের স্বপ্নের সজাগ মঞ্চ। 
 
জাহাঙ্গীর মল্লিক
 
জাহাঙ্গীর মল্লিকের দৌলতে কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করেকর্মে খাচ্ছে। গোদা বাংলায় বলা যায়, বেশ কয়েক হাজার মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করছেন জাহাঙ্গীর মল্লিকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। ২০১৯ সালে জে. এম. বাজার প্রতিষ্ঠা করেন জাহাঙ্গীর মল্লিক। আদপে তিনি বর্ধমান জেলার বুলবুলিতলার বাসিন্দা। কিন্তু শান্তিপুরের সঙ্গে রয়েছে তাঁর নাড়ির যোগ। ২০০৬ সাল থেকে ঘোষ মার্কেটের ছোট্ট চালায় বসে শাড়ি বিক্রি করতেন যে মানুষটি, কালের নিয়মে ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে আজ সেই মার্কেটের মধ্যেই বিশাল দুটি কাউন্টারের মালিক তিনি।
 
 
কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, মেধা এবং সততা নিয়ে মাত্র ৪০ বছর বয়সেই উন্নতির শীর্ষদেশে পৌঁছেছেন তিনি। কিন্তু ভোলেননি নিজের দারিদ্রকে। আর সেই কারণেই বোধহয় সমাজসেবার নেশা পেয়ে বসেছে তাঁকে। মানুষের কষ্ট স্থির থাকতে দেয় না তাঁকে।ফলে সুযোগ পেলেই আর্থিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন।
 
জাহাঙ্গীর মল্লিক  
 
বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে, বহু চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে জাহাঙ্গীর মল্লিক আজ রাজার মতোই সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। নিরহংকারী এই মানুষটির উদারতা এবং মহত্ব অবশ্য অন্য জায়গায়। নিজের উন্নতির সাথে সাথে অন্যদের উন্নতির কথাও ভাবেন তিনি। আগেই বলেছি জাহাঙ্গীর মল্লিকের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ আর্থিক সহযোগিতায় দিন গুজরান করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
 
হাজারখানেক টোটোওয়ালার প্রত্যক্ষ অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেওয়া কোনও সাধারণ ব্যাপার নয়। এই তথ্য সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। এর বাইরে আরও কয়েক হাজার মানুষ আর্থিক দিক থেকে তাঁর ওপর পরোক্ষ ভাবে নির্ভরশীল।
 
মতিয়ার রহমান
 
বিপদের হাত থেকে বিশ্বকে বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জকে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে এর মোকাবেলায় একের পর এক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীকে বাঁচানোর যুদ্ধে, এবং নতুন আলোর সন্ধানে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশ বিদেশের পরিবেশবিদরা ও বিজ্ঞানীরা। এমনই এক পথের সন্ধানে নেমেছেন এক বাঙালি গবেষক মতিয়ার রহমান।
 
মতিয়ার রহমান 
 
তিনি তাঁর নিয়ত চেষ্টা ও গবেষণার ফল পেলেন হাতে নাতে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মতিয়ার রহমান এবং তাঁর সহকর্মী বিজ্ঞানী শুভজিৎ ভট্টাচার্য বানিয়ে ফেললেন কৃত্রিম পাতা (Artificial Leaf)। যা সূর্যালোক, জল আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে তৈরি করবে তরল জ্বালানি আর অক্সিজেন। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত নেচার জার্নালের (Nature Journal) সাব-জার্নাল নেচার এনার্জি-তে (Nature Energy)। নয়া আবিষ্কারেরে ফলে যন্ত্রটির মাধ্যমে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে তৈরি হয় ইথানল, প্রোপানল প্রভৃতি জ্বালানি আর অক্সিজেন। জ্বালানিগুলি সহজেই বহনযোগ্য। ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন শিল্পে, গাড়ির ইঞ্জিনে। আর এই জ্বালানিগুলি যেহেতু বাতাসের অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করেই তৈরি হচ্ছে, তাই গোটা প্রক্রিয়ায় বাতাসে মোট কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ হচ্ছে শূন্য (Net Zero)। এই ধরনের পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি (Renewable Fuel) গুলিই অদূর ভবিষ্যতে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
 
মোস্তাক হোসেন
 
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম এই শিল্প উদ্যোগী ও শিক্ষা প্রেমীকে আজ দেশের অনেক মানুষই চেনেন। তারই বদান্যতায় এই গ্রামটি আজ ভারত মানচিত্রে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেছে। মানবতাবাদী মোস্তাক হোসেন ভীষণভাবে সমাজ দরদী এবং শিক্ষাব্রতী একজন মানুষ। একই সঙ্গে তিনি যে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ সে কথাও জেনেছেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা। সমাজের স্ব-উদ্যোগে নির্মিত আবাসিক স্কুলগুলি আমাদের স্বপ্ন, আমাদের যৌথ আন্দোলন। শুধু শিক্ষার জন্য নয়, বিদ্যা প্রসারের জন্যও নয়, আমাদের আরেক লক্ষ্য নৈতিকতাময় সমাজ সেবা।
 
মোস্তাক হোসেন
 
ইসলাম নির্বিশেষের জন্য যে শিক্ষা নীতি বাতলে দিয়েছে, বিদ্যাকে সর্বমুখী করার জন্য যে ইস্তাহার প্রচার করেছে, বিদ্বান ও বিজ্ঞ ব্যক্তিকে তার প্রতিবেশী, তার সম্প্রদায়, তার জাতি এবং অভিন্ন মানুষের পাশে সংশয়হীন চিত্তে দাঁড়াবার যে পরামর্শ দিয়েছে, নিরন্ন এবং দুঃস্থকে কোলে তুলে, সযত্নে তার দেহ ও চিত্ত নির্মাণের যে ফরমান জারি করেছে, আমরা সীমিত সম্বল ও কর্মশক্তি নিয়ে সে সব আদর্শের চারা পুঁতে রাখতে চাই প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।