ডাঃ ফারাজ বোহরি,ডাঃ অ্যাম্ব্রিন বোহরি (মাঝখানে) এবং হাসপাতালের কর্মীরা গণপতি আরতির পরে
আলহাদ জোশী
জলগাঁও জেলার এরানডোল শহরে, একটি মুসলিম পরিবার গত ৩৭ বছর ধরে এক অনন্য প্রথা লালন করে চলেছে। প্রতি বছর, ডাঃ কে. এ. বোহরির বাড়িতে ধর্মীয় সব রীতিনীতি অনুসরণ করে গণেশ প্রতিমা স্থাপন করা হয়।
একজন ব্যস্ত চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি এই প্রথাটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করে আসছেন, নিজের ধর্মবিশ্বাস ও পেশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে। গনেশ উৎসবের সময় যখন গোটা শহর উৎসবের আমেজে মেতে থাকে, তখন বোহরি পরিবারের বাড়িতে ‘বাপ্পা’র প্রতিষ্ঠা সমাজে এক গভীর ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেয়।
ডাঃ কে. এ. বোহরি ও তাঁর স্ত্রী ডাঃ এন. কে. বোহরি গত ৫০ বছর ধরে রোগীদের সেবা করে আসছেন।
তাঁদের পুত্র, ডাঃ ফারহাজ বোহরি, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং তাঁর স্ত্রী, ডাঃ আম্বরিন বোহরি, একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। এই প্রথার সূচনা হয়েছিল যখন ছোট ফারহাজ মাত্র তিন বছর বয়সে কিন্ডারগার্টেনে পড়তেন। গনেশ উৎসবের সময় তিনি বন্ধুদের বাড়িতে যেতেন এবং তখনই তাঁর মনে গভীর ইচ্ছা জাগে নিজ বাড়িতেও ‘বাপ্পা’ আনার।
তিনি তাঁর বাবাকে অনুরোধ করেন যেন তিনি বাড়িতে একটি গণেশ প্রতিমা আনেন। ডাঃ বোহরি ছেলের সেই ইচ্ছা পূরণ করেন এবং বাড়িতে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেন।এই ঐতিহ্যপূর্ণ প্রথাটি টানা ৩৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করা হচ্ছে।
ডাঃ ফারহাজ দশম শ্রেণি পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য শহর ছেড়ে চলে গেলেও,তাঁর বাবা ডাঃ বোহরি কখনোই এই প্রথাকে ভাঙতে দেননি। স্কুল,কলেজ ও চিকিৎসা শিক্ষা চলাকালীন—ডাঃ ফারহাজ যেখানে ছিলেন,সেখানেই তিনি গনেশ উৎসবে অংশগ্রহণ ও উদযাপন করেছেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও বোহরি পরিবার তাঁদের মহসওয়াদ রোডে অবস্থিত ক্লিনিকে সুন্দর সাজসজ্জাসহ একটি গণেশ প্রতিমা স্থাপন করেছেন। পরিবারের সব সদস্যই নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যার আরতিতে এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পাঁচ দিন পর প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয়।এবার প্রতিমা স্থাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আহিররাও, হেমন্ত কুলকার্নি, আইনজীবি মোহন শুক্লা, এন. ডি. কালকার, প্রাক্তন উপ-মেয়র শক্তুনালা আহিররাও, নন্দা শুক্লা, মীনা পওয়ার, সমাধান বাদগুজার, গোপাল পাটিল, ক্লিনিকের কর্মচারী এবং পরিবারের বন্ধু-বান্ধবরা।
প্রতিবছর গণেশ, যিনি মানুষের জীবন থেকে বাধা দূর করেন, তাঁকে ঘরে স্বাগত জানিয়ে বোহরি পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা দেয়।
এই পরিবার সত্যিকার অর্থেই দেখিয়ে দিয়েছে যে গনেশ উৎসব শুধু আনন্দ বা ভক্তির উৎসব নয়—এটি ঐক্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের উৎসব।
বোহরি পরিবার জানিয়েছেন যে ‘বাপ্পা’র পূজার মাধ্যমে যে মানসিক শান্তি ও আত্মিক তৃপ্তি তাঁরা পান, তা তাঁদের জীবনে অপরিসীম আনন্দ নিয়ে আসে। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের একত্রিত হওয়াটাও এই উৎসবের একটি বিশেষ আনন্দের দিক।