শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
ঋতাভরী চক্রবর্তী অভিনীত ছবি এবার অস্কারের নমিনেশনে। ছবির নাম, 'পাপা বুকা'। শুনে অদ্ভুত লাগছে তো নামটা? একটু অন্যরকম নাম। ঠিকই ধরেছেন। এটা আদতে পাপুয়া নিউ গিনির টক পিসিন ভাষায় দেওয়া নাম। ছবিটি তৈরি হয়েছে পাপুয়া নিউগিনিতে। টক পিসিন ছাড়াও মালায়ালম, বাংলা, হিন্দি ও ইংরাজি ভাষার ব্যবহার রয়েছে এই ছবিতে।
ছবির কাহিনি এক যুদ্ধবিধ্বস্ত সময়ের প্রেক্ষাপটে তৈরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত ও পাপুয়া নিউগিনির মধ্যে গড়ে ওঠা অদেখা সেতুবন্ধন, বিসর্জন আর মানবিকতার গল্পই ফুটে উঠেছে ‘পাপা বুকা’র গোটা সিনেমা জুড়ে। এই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র একজন ৮৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ ও তার নাতনি। এই সিনেমায় ঋতাভরী নাতনির ভূমিকায় রয়েছেন। চরিত্রের নাম রোমিলা।
ঋতাভরী তার সিনেমার দুজন অভিনেতার সঙ্গে
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতাভরী লিখেছেন, 'আমাদের সিনেমা 'পাপা বুকা' নিউ গিনি থেকে অস্কারের নমিনেশনে যাচ্ছে। পরিচালক বিজুকুমার দামোদরন ইতিহাস তৈরি করেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে নিয়ে আমি উত্তেজিত। এই সিনেমা ভারত আর নিউ গিনি-র মধ্যের সম্পর্ককে তুলে ধরে। দুই দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে এই সিনেমা। এই সিনেমায় কাজ করাটা একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা'।
তবে সেই সিনেমাই যে তাঁকে এত বড় সম্মান এনে দেবে, তা কল্পনাও করেননি ঋতাভরী। ছবির কাহিনিতে আমরা দেখতে পাই রোমিলা, আনন্দ এবং গাইড পাপা বুকা পাপুয়া নিউ গিনির প্রত্যন্ত গ্রামগুলির মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ সৈনিকদের জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রাণবন্ত স্মৃতি লিপিবদ্ধ করা হয়, যারা তাদের অভিযানে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল।
পাপা বুকা সিনেমার একটি দৃশ্যে ঋতাভরী চক্রবর্তী
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকের ছোট্ট দেশ একটা দেশ পাপুয়া নিউগিনি। এই প্রথম তারা অস্কারের নমিনেশনে সিনেমা পাঠাচ্ছে। আর এই সিনেমারই প্রধান মুখ ঋতাভরী চক্রবর্তী। বেশি কিছুদিন আগেই এই ছবির কাজ শেষ করেছেন ঋতাভরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একথা নিজেই শেয়ার করেছেন উচ্ছ্বসিত নায়িকা।
এই সিনেমার পরিচালক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দক্ষিণ ভারতীয় পরিচালক বিজুকুমার দামোদরন। স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরে দাঁড়িয়ে পাপুয়া নিউগিনি প্রথমবারের মতো অস্কারে পাঠাচ্ছে তাঁদের সিনেমা।