নূরুল হক / আগরতলা
মাদ্রাসায় টাইটেল (মাধ্যমিক সমমান) পাশ করার পর আর পড়াশোনা হয়নি ত্রিপুরার প্রান্তিক গ্রাম সোনামুড়ার কৃষক পরিবারের ছেলে সবুজ মিয়ার। তবে পড়াশুনা ছেড়ে তিনি ধর্ম এবং অন্য কোন পথে না গিয়ে তিনি নিজের বাবাকে অনুসরণ করেন বেছে নিয়েছেন কৃষিকাজকে। কৃষিকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়ার খেদাবাড়ি এলাকার ২৮ বছর বয়সী যুবক সবুজ মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ, উন্নতমানের বীজ ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে একজন সফল কৃষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
নিজের বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি প্রজাতির আমের চারা রোপণ করেছিলেন সবুজ মিয়া। এর মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত "মিয়াজাকি" আম চাষে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। তার বাগানে উৎপাদিত একটি মিয়াজাকি আমের ওজন প্রায় ২ কেজি হয়েছে। সম্পূর্ণ আঁশ বিহীন এই সুস্বাদু আমের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে বিশ্বের বাজারে।
এছাড়াও "চাকাপাত" আম সহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করছেন তিনি। পরীক্ষামূলক স্বল্প সংখ্যক গাছে সব প্রজাতির আমেরই উল্লেখযোগ্য ফলন হয়েছে। তবে শুধু আম নয় শুধু আম নয়। সবুজ মিয়া তার নির্দিষ্ট পরিসরের জমিতে লাগিয়েছেন প্রায় ২০০টি ড্রাগন ফলের চারা। রয়েছে কুল সহ অন্যান্য ফলের চাষ। ড্রাগন ফল এবং কুল গাছে ইতোমধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে এবং শিগগিরই ফলন পাওয়ার আশা করছেন।
সবুজ মিয়া জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মিয়াজাকি আমের মূল্য লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও স্থানীয় বাজারে তিনি প্রতি কেজি প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হয়। তবে আবার তিনি যে ফলন করেছেন তা বাজারজাত সম্ভব হবে না। পরিমাণ খুবই কম। পরীক্ষামূলক চাষের সফলতা আসার পর তিনি দ্বিতীয়বার বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ করবেন।
শুধু নিজের চাষ করবেন এমন পরিকল্পনা তার নেই। তিনি নিজের নার্সারিতে এসব প্রজাতির উন্নত মানের আমের চারা বিক্রি করছেন খুবই স্বল্পমূল্যে। সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজের কৃষিজ ফসল এবং সাফল্যের কথা।
সবুজ মিয়া বলেন তার বাবা, এলাকার মানুষ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা তাকে আরও উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে একটি জলের পাম্পের জন্য তিনি কিছুটা সমস্যাই রয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় জলের পাম্প বসাতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে তার আরো অগ্রগতি হবে। একইভাবে তিনি ত্রিপুরা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের সহযোগিতায় আঙ্গুর চাষ করতে চাইছেন।
তিনি বলেন কৃষিক্ষেত্রে তার অপূর্ণ ইচ্ছাগুলির মধ্যে রয়েছে নিজের বাগানে আঙ্গুর চাষ করা। বর্তমান সময়ের ত্রিপুরা রাজ্যে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র যেভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করে আঙুর চাষে রাজ্যকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে সবুজ মিয়াও সেই দিশাই এগোতে চাইছেন।
আম চাষে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সবুজ মিয়া আশাবাদী, আগামী দিনে আধুনিক ফল চাষের মাধ্যমে তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন এবং এলাকার যুবকদেরও কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন।মিয়াজাকি আম চাষে সাফল্য সোনামুড়ার সবুজ মিয়ার। স্বপ্ন দেখছেন আঙুর চাষের।