আওয়াজ দ্য ভয়েস, বাংলা
গ্রামের আকাশে তাকিয়ে অসংখ্য শিশু যেমন একদিন তারার দেশে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখে, তেমনই এক স্বপ্ন আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে নতুন আলো ছড়াল অসমের কলিয়াবরে। ছোট্ট শহরের এক কিশোর নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে পৌঁছে গেল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার শিক্ষামূলক কর্মসূচির দোরগোড়ায়। এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমগ্র অঞ্চল।
নগাঁও জেলার কলিয়াবরের আরিমোরার নলতলিস্থিত কলিয়াবর গুরুকুল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র জোনাক জ্যোতি বরদলৈ International Space Science Competition (ISSC) 2026-এ সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে আমেরিকার NASA-এর একটি বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ অর্জন করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে জোনাক আমেরিকায় যাবে। সেখানে তিন দিনের একটি বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সে নাসার গবেষণা কার্যক্রম, মহাকাশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত উদ্যোগ সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবে। এছাড়াও প্রখ্যাত মহাকাশচারী ডঃ ডন থমাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর সেমিনারে অংশ নেওয়ার বিরল সুযোগও পাবে সে।
জোনাকের এই যাত্রা শুরু হয় ISSC পরীক্ষার মাধ্যমে। গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় সাফল্যের পর ১ মে ফলাফল প্রকাশিত হয়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তায় সে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি নেয়। ১৫ মে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর নাসার শিক্ষামূলক কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয় সে।
মহাকাশ গবেষণা নিয়ে গভীর আগ্রহ থাকলেও ভবিষ্যতে একজন IPS অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জোনাক। পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়েও তার আগ্রহ বরাবরই উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই সাফল্যকে প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, জোনাকের একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং পরিবারের নিরন্তর সমর্থনের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলেও আশাবাদী তারা।
আজকের দিনে যখন গ্রামের বহু ছাত্রছাত্রী সুযোগের অভাবে বড় স্বপ্ন দেখতেই দ্বিধা বোধ করে, তখন জোনাক জ্যোতি বরদলৈ প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে ছোট শহর কিংবা গ্রামের সীমানা কোনো বাধা নয়। কলিয়াবরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই কিশোরের সাফল্য শুধু এক ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং অসমের নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা, যেখানে স্বপ্ন আকাশ ছুঁতে শেখায়।