অভাবকে ঠেলে সেলিমা এবার বিমানে লালকেল্লায়! দিনমজুর বাবা টাকা দিতে পারেননি, তবুও কীভাবে ভাগ্য বদলাল বাসন্তীর সেলিমার?

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
অভাবকে ঠেলে সেলিমা এবার বিমানে লালকেল্লায়! দিনমজুর বাবা টাকা দিতে পারেননি, তবুও কীভাবে ভাগ্য বদলাল বাসন্তীর সেলিমার?
অভাবকে ঠেলে সেলিমা এবার বিমানে লালকেল্লায়! দিনমজুর বাবা টাকা দিতে পারেননি, তবুও কীভাবে ভাগ্য বদলাল বাসন্তীর সেলিমার?
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

অভাবকে দুরে ঠেলে এবার সোজা লালকেল্লায় সুন্দরবনের বাসন্তীর মেয়ে সেলিমা। বিধায়কের সহযোগিতায় বিমান চড়ে স্বপ্নপূরণ করতে চলেছে এই মেধাবী মেয়েটি। আমন্ত্রণ পেয়েও অভাবের কারণে যখন লালকেল্লা যাওয়ার স্বপ্ন আটকে ছিল, ঠিক তখনই মুসকিল আসান করে দিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। বলা ভালো, সেলিমার স্বপ্নের কাছে হার মানল অভাব। 
 
সমস্ত অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে ১৫ই আগষ্টের আগে দিল্লির বিমানে রওনা দিল বাংলার গর্ব সেলিমা মোল্লা। আর সবকিছুই সম্ভব হলো ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাসের মানবিক উদ্যোগের কারণে। হাসিমুখে রওনা দিয়েছে সেলিমা। শনিবার ১৫ আগষ্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বাসন্তীর এই কৃতী কন্যা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছে।
 

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের আমঝাড়া গ্রামের ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত উচ্চমাধ্যমিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা। বাবা সেলিম মোল্লা দিনমজুরি করে কোনরকম সংসারটা চালান। মা রেহেনা বেগম গৃহবধূ। চার ভাই-বোনের সংসার সেলিমাদের। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৩০ মিনিট সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে হয়, তবুও পড়াশুনার অদম্য জেদ তাকে কোনভাবেই হারাতে পারেনি। ভারত সরকারের ‘বিকশিত ভারত’ শীর্ষক অনলাইন প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেলিমার লেখা ইংরেজি প্রবন্ধটি শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়। আর তাতেই আমন্ত্রণ আসে লালকেল্লার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার।
 
আমন্ত্রণপত্র পেলেও দরিদ্র পরিবারের কাছে নেমে আসে দুশ্চিন্তা। হঠাৎ করে দিল্লিতে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার মত যাতায়াত ভাড়াটুকু দিনমজুর বাবার কাছে নেই। সেই খবর নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই এই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। তিনি নিজেই যোগাযোগ করেন সেলিমার পরিবারের সঙ্গে। আর তাঁর স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছানোর সমস্ত বন্দোবস্ত করে দেন বিধায়ক। সেলিমার বাবা ও তাঁর এক শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নিজের গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দেন। 
 
হঠাৎ করে এই প্রাপ্তির পর সেলিমা জানাল, স্বপ্নেও ভাবিনি এভাবে দিল্লি যেতে পারব। বিধায়ক স্যার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। বিধায়কের এই সংবেদনশীল উদ্যোগের কথা চাউর হতেই তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে সেলিমার স্কুলের শিক্ষকরা। আজ গোটা বাংলা গর্বিত সেলিমার এই যাত্রায়।


শেহতীয়া খবৰ