এও কি সম্ভব! চালের দানায় মা দুর্গা, চোখের পলক ফেললেই মিস, ৬ দিনের সাধনায় তাক লাগালেন দুর্গাপুরের ছোটন
তরুণ নন্দী / কলকাতা
একটি ওইটুকু চালের দানা, তাতেই ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি। নিখুঁত হাতের কাজ, অসীম ধৈর্যের এই নির্দশন দেখিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের স্বপ্ন দেখছেন দুর্গাপুরের ছোটন। দুর্গাপুরের দুবচুরুরিয়ার বাসিন্দা ছোটন ঘোষের এই শিল্পকর্ম নিয়ে এখন সংবাদমাধ্যম তো বটেই আলোচনা চলছে নানামহলে। একটি চালের দানায় মা দুর্গার প্রতিকৃতি আঁকতে এই শিল্পীর সময় লেগেছে টানা ছয় দিন।
দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেল হোক বা মুর্তি, নানা জায়গায় দেখা যায় কত আয়োজন। থিমে থাকে শিল্পসৃষ্টির প্রতিযোগিতা। কোথাও বিশাল প্রতিমা তো কোথাও আবার দেখা যায় নজরকাড়া মণ্ডপসজ্জা। একে অপরকে টেক্কা দিতে অভিনব ভাবনায় মাতেন শিল্পীরা। কিন্তু দুর্গাপুরের শিল্পী ছোটন ঘোষ যেন নজর কাড়তে বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ অন্য এক পথ। তাঁর ক্যানভাস মাত্র একটি ক্ষুদ্র চালের দানা। আর সেই ক্ষুদ্র পরিসরেই তিনি দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।
চালের দানায় মা দুর্গার প্রতিকৃতি
কাজ দেখে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাস্তবে এই কাজ ফুটিয়ে তোলা অনেক বেশি কঠিন। কারণ, চালের দানার মতো ক্ষুদ্র জায়গায় নিখুঁত ছবি আঁকতে গেলে প্রয়োজন গভীর মনোসংযোগ। হাতের সামান্য কাঁপুনি, রেখার সামান্য এদিক-ওদিক কিংবা মুহূর্তের অসতর্কতায় নষ্ট হতে পারে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম। মনের জেদকে সম্বল করে কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে অসাধ্য সাধন করেছেন এই শিল্পী। একাগ্রতাকে করেই মাত্র ছয় দিনেই শেষ করেছেন তাঁর স্বপ্নের শিল্পকর্ম।
এই শিল্পকর্মের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল ছবি আঁকার কৌশলও। সাধারণ যে তুলি দিয়ে ছবি আঁকা হয় তা ব্যবহার করেন নি ছোটন। পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন ইলেকট্রিক কপার তারের অত্যন্ত সূক্ষ্ম অংশ এবং পাতলা আলপিন। অতি ছোট জায়গায় নিখুঁত রেখা টানতে এই বিশেষ সরঞ্জামগুলিই ছিল তাঁর ভরসা। দেবী দু্র্গার ছবি আঁকতে প্রয়োজন হয়েছে অসামান্য ধৈর্য, সূক্ষ্ম দৃষ্টিশক্তি আর হাতের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ।
বলা ভালো, চালের দানার মতো সীমিত পরিসরে দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা নিঃসন্দেহে ছোটন ঘোষের এক ব্যতিক্রমী শিল্পসাধনা। আসল কথা হল, শিল্পের জন্য বিশাল পরিসরের না হলেও চলে। কখনও কখনও সবচেয়ে ছোট পরিসরই হয়ে উঠতে পারে প্রতিভা প্রকাশের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।
চালের উপর এই শিল্পকর্ম করতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত দুর্গাপুরের ছোটন ঘোষ। তাঁর কথায়, “আমি এর আগেও অনেক কিছু করেছি। তার থেকেও ব্যতিক্রম চালের উপর দুর্গা। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এইভাবে চালের মধ্যে দুর্গা আঁকার। এবার সেটাই সম্ভব হয়েছে।”
চালের দানায় মা দুর্গার প্রতিকৃতি
নিজের কাজের প্রতি দক্ষতা আর তাঁর সৃজনশীলতাকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। আর এই স্বপ্নের সঙ্গেই জুড়ে গিয়েছে তাঁর বিশ্ব রেকর্ড গড়ার আকাঙ্ক্ষা। বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পেতে হলে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বাইরেও ছোটনের এই শিল্পকীর্তি ইতিমধ্যেই ব্যতিক্রমী প্রতিভার পরিচয় বহন করছে ছোটন। শিল্পের মূল্য কি তার আকারে, নাকি শিল্পীর কল্পনা ও দক্ষতায়? এর উত্তরটা অবশ্যই দিতে পারবে শিল্পরসিকরা। এখন দেখার বিষয় হল, চালের দানায় দুর্গা আঁকার এই অনন্য শিল্পকর্মকে সঙ্গী করে ছোটনের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়। তবে এই শিল্পী প্রমাণ করেছেন, তাঁর ক্যানভাস ছোট হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর স্বপ্ন কখনও ছোট নয়।