ঈদ হোক বা দুর্গাপুজো, সবার আগে মানুষ! সুন্দরবনে সম্প্রীতির নজির, অসহায়দের মন জিতলেন ইয়ামুদ্দিন সাহাজী ও তাঁর টিম

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 17 h ago
ঈদ হোক বা দুর্গাপুজো, সবার আগে মানুষ! সুন্দরবনে সম্প্রীতির নজির, অসহায়দের মন জিতলেন ইয়ামুদ্দিন সাহাজী ও তাঁর টিম
ঈদ হোক বা দুর্গাপুজো, সবার আগে মানুষ! সুন্দরবনে সম্প্রীতির নজির, অসহায়দের মন জিতলেন ইয়ামুদ্দিন সাহাজী ও তাঁর টিম
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ 
 
ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে পুজোর মুখে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন ইয়ামুদ্দিন সাহাজী সহ এক ঝাঁক সহৃয় মানুষ। দুর্গম নদীপথ পেরিয়ে সুন্দরবনের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের প্রায় ২৫০ মানুষের মুখে পুজোর হাসি ফোটালেন তাঁরা। দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক পরার আনন্দ। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁদের কাছে পুজোয় নতুন জামাকাপড় পরার ইচ্ছেটুকু পূরণ হয়না। অভাবের সংসারে উৎসবে নতুন পোষাক কেনার চেয়ে প্রতিদিনের লড়াইটাই অনেক বড়।  আসলে নতুন পোশাকের উপহার সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় কচিকাঁচাদের। আর সেই খুশিটুকু পৌঁছে দিতেই দুর্গম নদীপথ পেরিয়ে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে হাজির হলেন একদল মানবতার ফেরিওয়ালা। তাঁদের হাত ধরে বাঙালির দুর্গোৎসবের আনন্দ পৌঁছে গেল সন্দেশখালির বামুনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ২৫০ জন  মানুষের কাছে।

সুন্দরবনের বামুনিয়া গ্রামের মানুষের নানা প্রতিকূলতা সামলাতে হয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। বিশেষ করে এই এলাকার বহু পরিবারের কাছে আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে পুজোর সময় সময় নতুন পোশাক কেনা সহজ নয়। চারপাশে পুজোর প্রস্তুতি, কেনাকাটার ব্যস্ততা চলে, তখন এই এলাকার অনেকেরই উৎসব কাটে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। এই কথা ভেবেই পুজোর মুখে ছবিটা একটু বদলানোর আন্তরিক প্রয়াস নিয়েই এগিয়ে এল ভাঙড় মানব কল্যাণ সমিতি।
 
সুন্দরবনের দুর্গম নদীপথে নৌকায় করে সমিতির সদস্যরা পৌঁছে গেলেন প্রত্যন্ত বামুনিয়া গ্রামে। উদ্দেশ্য, এলাকার অসহায় মানুষগুলোর মুখে চওড়া হাসি ফোটাতে। প্রায় এলাকার ২৫০ জন অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন তাঁরা। নতুন জামাকাপড় হাতে পেয়ে এই দুর্গম এলাকার নানা বয়সী মানুষগুলো মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। কারও কাছে পুজোয় নতুন পোশাক পরার বহুদিনের ইচ্ছেপূরণ হল। যাঁদের সংসারে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়, তাঁদের হাতে উৎসবের মুখে এই উপহার পাওয়ার বিষয়টাই গভীর আনন্দের। আসলে এই মানুষগুলোর আনন্দের হাসির মধ্যেই যেন তৃপ্তি খুঁজে পেলেন উদ্যোক্তারা। বলা ভালো, এই উদ্যোগে যেন বড় হয়ে উঠল মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। কারণ, কারও হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া মানে হল, সমাজে তিনি একা নন। পাশে রয়েছে অনেকেই।
 
 
সুন্দরবনের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের পাশে ইয়ামুদ্দিন সাহাজী
 
আর তাই উৎসব-পার্বণে তাঁর আনন্দেরও মূল্য রয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে থাকার ভাবনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড় মানব কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম রব বৈদ্য, সম্পাদক ইয়ামুদ্দিন সাহাজী, সমিতির অন্যান্য সদস্য এবং বিশিষ্ট অতিথিরা।
 
সমিতির সম্পাদক ইয়ামুদ্দিন সাহাজীর কথায়, “দুর্গাপুজো উপলক্ষে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেই সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন পোশাক উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ করি না। ঈদের সময় যেমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, তেমনই দুর্গাপুজোতেও তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। নতুন পোশাক পেয়ে অসহায় মানুষগুলির মুখে হাসি দেখে আমরা নিজেরাও আনন্দিত।”

এই সমিতির কাছে মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের কাজের মূল প্রেরণা। ঈদ হোক কিংবা দুর্গাপুজো, উৎসবের নাম আলাদা হতে পারে কিন্তু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দটাই তাঁদের কাছে লক্ষ্য। উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার আনন্দ পৌঁছে যায় সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষের কাছেও। সমাজে থাকা মানুষগুলোর কাছে ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাঁদের আনন্দ আর মুখের হাসির কোনও আলাদা ধর্ম নেই। কারণ, উৎসবের আসল আলো জ্বলে ওঠে মানুষের হৃদয়ে।


অধিক পঢ়ক

শেহতীয়া খবৰ