১২ বছর বয়সেই ফেলে দেওয়া বিস্কুটের কার্টন থেকে শুরু! এখন ইছামতীর মাটিতে হাতের গুণে গোটা দেশে সাড়া ফেললেন টাকির তরুণ শিল্পী
তরুণ নন্দী / কলকাতা
একটি সাধারণ বিস্কুটের কার্টন, আর একটি ১২ বছরের এক বাচ্চার স্থির লক্ষ্যে সেসময় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার টাকির এই ছাত্রের অসাধারণ প্রতিভার গল্পটা ঠিক এখান থেকেই শুরু। যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলনা বা মোবাইল নিয়ে সময় কাটায়, ঠিক ওই বয়সেই বাবা ভোলাকৃষ্ণ বিশ্বাসের বিস্কুট বিক্রির ফেলনা পেটিগুলোই যেন হয়ে উঠেছিল ছোট্ট দীপন বিশ্বাসের প্রথম ক্যানভাস।
সত্যি কথা বলতে, দীপন শিল্পচর্চা করলেও তার ছিল না কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ। এমনকি দামি সরঞ্জামও ছিল না তার কাছে। শিল্পসৃষ্টির নেশায় টিফিনের জমানো টাকাতেই চলত সরঞ্জাম কেনা। একটু একটু করে জমানো টাকাতে কিনে আনা রং-তুলি আর বাড়ির পাশে বয়ে চলা ইছামতী নদীর পলিমাটি, এই ছিল দীপনের প্রথম মূলধন। বিস্কুটের কার্টন কেটে কেটে মুর্তির অবয়ব তৈরির সেই শখ সময়ের হাত ধরে প্রথাগত শিল্পচর্চাকে ছাপিয়ে গেল। ছোট হাতে তৈরি হওয়া সেই শিল্পের নমুনা দেখে সেদিন কেউ ভাবেনি দীপন আজ এই জায়গায় পৌঁছে যাবে।
দীপন বিশ্বাস
বসিরহাটের ইছামতী নদীর সেই মাটি দীপনের হাতের জাদুতে এক ফুট, দুই ফুট করে আজ পূর্ণাঙ্গ মৃন্ময়ী রূপ পাচ্ছেন দেবী প্রতিমা। বর্তমানে টাকি গভর্নমেন্ট কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র দীপন। বলা ভালো, এখন সে নিজের খরচ নিজেই চালায়।
সবচেয়ে বড় খবর হল, সীমান্ত শহর টাকির থুবার মোড়ে বসে তাঁর তৈরি করা প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায়। এমনকি ভিনরাজ্যের পুজো মণ্ডপেও যাবে দীপনের বানানো মুর্তি। জানা গেল, শিল্প থেকে আসা উপার্জনের সিংহভাগ অংশই দীপন ইনভেস্ট করেন নতুন রং, মাটি আর কাজের গুরুত্বপূর্ন সরঞ্জাম কিনতে। আর বাকি রোজগারটুকু চলে যায় পড়াশুনোর জন্য। রাজ্যস্তরের কলা উৎসবে প্রথম স্থান অধিকার করে দীপন প্রমাণ করেছেন, জীবনে প্রতিকূলতা কখনো নিজের প্রতিভার পথ আটকাতে পারে না।
দীপনের মা গীতা বিশ্বাস স্বপ্ন দেখেন, ছেলের শিল্পকৃতি ছড়িয়ে পড়ুক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুদূর বিশ্ব দরবারে। আজ ছেলের গর্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে দীপনের পরিবার থেকে প্রতিবেশিরা। ছোট্ট বয়সের বিস্কুটের পেটি দিয়ে শিল্প শুরু করা সেই ছোট্ট হাতের আশ্চর্য ছোঁয়ায় ইছামতীর মাটি আজ পাচ্ছে দেবীর রূপ। সমস্ত প্রতিকূলতা কিম্বা বাধাকে জয় করে দীপনের এই লক্ষ্য যে আগামীদিনে বিশ্বজয় করতে পারে তা আগাম বুঝতে পারছেন বহু শিল্পরসিকরা।