শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ :
রবিবার সাজানো হয়েছিল তারকা ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানা ও গায়ক পলাশ মুচ্ছলের বিয়ের আসর। ঘনিষ্ঠ পরিবার-পরিজন এবং অল্প কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি—এভাবেই সাদামাটা আড়ম্বরে চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল দু’জনের। প্রাক্বিবাহের নানান অনুষ্ঠান—গায়েহলুদ, মেহেন্দি থেকে সঙ্গীত—গত কয়েক দিন ধরে উৎসবের আমেজে ডুবে ছিল দু’টি পরিবারই। সেই আনন্দঘন পরিবেশেই হঠাৎ নেমে এল বিষাদের ছায়া।
বিকালের দিকেই বিয়ের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই বিয়েবাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় একটি অ্যাম্বুল্যান্স। প্রথমে অতিথিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে—ধারণা করা হয়, উপস্থিত কারও শরীর খারাপ হওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন স্মৃতি মন্ধানার বাবা। আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্রিকেট তারকার ঘনিষ্ঠ সহকারী তুহিন মিশ্র জানিয়েছেন, সকাল থেকেই শরীরখারাপ লাগছিল স্মৃতির বাবার। পরে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা শুরু করেন এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তাঁর সঠিক অবস্থা নিয়ে আপাতত কিছু বলা না গেলেও পরিবার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।
এই পরিস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না—খুব দৃঢ়ভাবেই এমন সিদ্ধান্ত নেন স্মৃতি। তুহিনের কথায়, “এই অবস্থায় বিয়ের কথা ভাবতেও চাইছে না স্মৃতি। বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কোনও অনুষ্ঠানই করা হবে না।”
পরিবারের সদস্যদেরও একই মত। আনন্দের অনুষ্ঠান যে মুহূর্তে দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে, তাতে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সবাই। অতিথিদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আপাতত হাসপাতালেই রয়েছেন স্মৃতি—বাবার পাশে থেকে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
একদিকে দুই পরিবারের মিলনোৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে হঠাৎ অনিশ্চয়তার কালো মেঘ—এভাবে থমকে গেল বহু প্রতীক্ষিত এই বিয়ে। চিকিৎসকেরা আশাবাদী হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীদিন নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রের খবর। তবে এখন সকলের একটাই প্রার্থনা—স্মৃতির বাবা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।