অসমের রঙিয়ার ফারিহা আঞ্জুমের চমক; মাত্র ১৫ বছর বয়সেই গড়লেন ‘এশিয়ান বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’
Story by Ariful Islam | Posted by Aparna Das • 16 h ago
অসমের কামরূপ জেলার রঙিয়ার কিশোরী ফারিহা আঞ্জুম
আরিফুল ইসলাম / গুয়াহাটি
বর্তমানে যখন অনেক কিশোর-কিশোরী মোবাইল ফোনে সময় কাটিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে, ঠিক সেই সময় অসমের কামরূপ জেলার রঙিয়ার এক কিশোরী নিজের সাহিত্য প্রতিভার জোরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজির গড়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিখ্যাত ‘এশিয়ান বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নিজের নাম নথিভুক্ত করে সমগ্র অঞ্চল তথা অসমের মুখ উজ্জ্বল করেছেন রঙিয়ার তিতকুড়ির বাসিন্দা ফারিহা আঞ্জুম (নেইনা)। রঙিয়ার সার্চ পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির এই মেধাবী ছাত্রী ইতিমধ্যেই ৩০০-রও বেশি কবিতা লিখে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
মাতৃত্বের চিরন্তন ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে শব্দের মালায় সাজিয়েই ফারিহা এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। সম্প্রতি নয়াদিল্লির ব্লু স্টার পাবলিকেশন-এর উদ্যোগে মাতৃ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘লাভ লেটার্স টু মা’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০০-রও বেশি প্রতিভাবান লেখক অংশগ্রহণ করে মায়ের ত্যাগ, অপরিসীম স্নেহ এবং অমূল্য ভূমিকা নিয়ে চিঠি, গল্প ও কবিতা রচনা করেন। সেই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে রঙিয়ার ফারিহা আঞ্জুমও নিজের আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী কবিতার মাধ্যমে শত শত লেখকের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন এবং ‘এশিয়ান বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নাম নথিভুক্ত করতে সক্ষম হন।
ফারিহা আঞ্জুমের পড়াশোনার এক মুহূর্ত
বৈতুল্লাহ শইকীয়া ও রুমা বেগমের কন্যা ফারিহা আঞ্জুমের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও একাগ্রতা থাকলে বয়স কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সার্চ পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির এই ছাত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চা, বিশেষ করে কবিতা লেখার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মনের অনুভূতিগুলিকে কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তাঁর শব্দচয়ন ও আবেগের প্রকাশভঙ্গি সত্যিই প্রশংসনীয়।
ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আকর্ষণ ছিল ফারিহার। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই প্রবন্ধ ও কবিতা লেখার অভ্যাস গড়ে ওঠে তাঁর। আওয়াজ–দ্য ভয়েস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফারিহা আঞ্জুম বলেন, “আমি ইংরেজি এবং হিন্দি, দুই ভাষাতেই লিখি। অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। ঠিক সেইভাবেই মাতৃ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিই। এরপরই আমার নাম ‘এশিয়ান বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়।”
উল্লেখযোগ্য যে, এই মেধাবী ছাত্রী ইতিমধ্যেই ১০০টি কবিতা নিয়ে ‘Ceiling Know All My Secrets’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। আগামী মাসে তাঁর একটি উপন্যাস এবং আরও একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হবে। দুটি বইয়ের কাজ প্রায় শেষ, শুধুমাত্র মুদ্রণের কাজ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফারিহা।
ফারিহা আঞ্জুমের অর্জিত পুরস্কার
ফারিহা আঞ্জুম বলেন, “প্রথমে আমি ‘Writer Connect India’ নামের একটি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক মঞ্চের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। পরে আমাকে সেখানে সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে আমি একটি সিনেমার গল্পও লিখছি। ভবিষ্যতেও লেখালেখি চালিয়ে যেতে চাই এবং একজন মনোবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ হতে চাই।”
ফারিহার বাবা বৈতুল্লাহ শইকীয়া বলেন, “আমার মেয়ে এত অল্প বয়সে এমন বড় সাফল্য অর্জন করবে, তা আমি ভাবিনি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই ওকে যতটা সম্ভব ভালো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যেন আরও সুনাম অর্জন করে এবং আরও ভালো করে, এই কামনাই করি।”
উল্লেখ্য, ফারিহার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাড়িতে শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় জমে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীরাও তাঁর এই কৃতিত্বে গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সার্চ পাবলিক স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফারিহা শুধু একজন মেধাবী ছাত্রীই নন, তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা আজ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চল তথা অসমের নাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল করেছে।
মা ও সন্তানের চিরন্তন সম্পর্ককে শব্দে রূপ দেওয়া ‘লাভ লেটার্স টু মা’ অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ফারিহাকে ভবিষ্যতে সাহিত্যজগতে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে ফারিহার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছেও এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।