শতানন্দ ভট্টাচার্য
শিলচর রেল স্টেশনে ১৯৬১ সনের ১৯ শে মে বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো ১১ জন শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন বরাক উপত্যকার কাছাড়, স্রীভূমি (করিমগঞ্জ) ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষ। উনিশের পথচলায় গত দুদিন ধরেই বরাক উপত্যকার তিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় শামিল হন সর্বস্তরের মানুষ। ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, ছোট বড় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বিধায়ক, সাংসদ, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তা, দিন মজুরসহ সবাই মিছিলে পা মেলান।
প্রতিটি মিছিল এবং সভায় সমস্বরে শিলচর রেলস্টেশনের নামকরণ ভাষা শহীদ স্টেশন হিসেবে নামকরণ করার দাবি উঠে।
আজ সকালে বরাকের তিন জেলা সদর এবং বিভিন্ন এলাকায় সারাদিনব্যাপী কার্যসূচি শুরু হয় শহীদবেদীতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ জ্ঞাপনের মাধ্যমে। তিন জেলাতেই মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি প্রভৃতি।
১৯৬১ সালের ১৯ মে অসমের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১১ জন বাঙালি অহিংস আন্দোলনকারী অসম পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। অসম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই রক্তাক্ত ইতিহাস রচিত হয়, যা পরবর্তীতে 'বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন' নামে পরিচিতি লাভ করে।
যাঁরা ওইদিন শহীদ হয়েছিলেন তাঁরা হলেন -
কমলা ভট্টাচার্য (একমাত্র নারী শহীদ)
কানাই লাল নিয়োগী
চণ্ডীচরণ সূত্রধর
হিতেশ বিশ্বাস
সত্যেন্দ্র কুমার দেব
সুনীল সরকার
সুকোমল পুরকায়স্থ
বীরেন্দ্র সূত্রধর
কুমুদ রঞ্জন দাস
তরণী দেবনাথ
সচীন্দ্র চন্দ্র পাল