শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সফল চিকিৎসক অমল দেব

Story by  Satananda Bhattacharjee | Posted by  Aparna Das • 8 h ago
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সফল চিকিৎসক অমল দেব
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সফল চিকিৎসক অমল দেব
 
শতানন্দ ভট্টাচার্য / শিলচর 

জন্মের আঠারো ঘণ্টার মধ্যেই করতে হয়েছিল অপারেশন । তাঁর নাম অমল দেব। বর্তমানে একজন এম বি বি এস পাস চিকিৎসক। আজ অব্দি ১৫ বার অপারেশন হয়েছে তবু প্রচণ্ড মানসিক শক্তি আর উৎসাহ তাঁকে শারীরিক সমস্যাকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে
 
অমল দেবের বাড়ি  শিলচরে। জন্ম থেকেই কনজেনিটাল ট্যালিপাস ইকুইনোভেরাস ও ভাসকুলার সমস্যায় ভুগছেন অমল। জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে বিশেষ সক্ষম হওয়া সত্বেও পড়াশুনা করে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ায় শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, পড়শী, পরিচিতজন সবাই আনন্দিত।
 

তিনি সত্যিই বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ বিশেষকরে শিশুদের কাছে এক উদাহরণস্বরূপ। জন্মগত শারীরিক জটিলতা সত্ত্বেও অদম্য অধ্যবসায়ের জোরে অমল দেব সম্প্রতি এমবিবিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার খবর এখন সামাজিক মাধ্যমে থাকা অনেকের একাউন্টেই স্থান পেয়েছে। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা বলেও অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।  একসময় চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার পরামর্শও দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি, ধিরে ধিরে মানসিক শক্তি জোগাড় করে পড়াশুনা করে নিজেই চিকিৎসক হয়েছেন।
 
তবে তাঁর জীবন সংগ্রামে বাবা অমিত রঞ্জন দেব, মা রাধা দেব এবং বোন তনুজা দেবের সমর্থন তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে বলে জানান অমল দেব।  তাঁর কথায় শৈশব-কৈশোর জুড়ে অসহ্য যন্ত্রণা ছিল তার সঙ্গী। পা ফুলে যেত, হাঁটাচলায় সমস্যা হতো, নিয়মিত ব্যথা-জ্বরে কষ্ট পেতেন। বিশেষভাবে তৈরি জুতো এবং বেদনানাশক ওষুধ ছাড়া তাঁর জীবন কল্পনা করা যেতো না। একবার পায়ে আলসার হয়ে যাওয়ায় প্রায় দু' বছর ঘরবন্দি থাকতে হয়।
 
তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে বাড়ির লোক এবং মেডিকেলে পড়ার সময় চিকিৎসকরা উৎসাহ দিতেন এবং তখনই শারীরিক কষ্টের মধ্যে ঠিক করেন যে তিনি চিকিৎসক হবেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র ১০ দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বেডেই পড়াশোনা চালিয়ে যান। শিলচর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়াকালীনও চারবার অপারেশন হয়। শেষবারের মতো অপারেশন হয় দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ এপোলো হাসপাতালে এবং এরপর থেকেই তিনি বেশ সুস্থ আছেন।
 
অমল দেব
 
মা রাধা দেব আবেগের সুরে জানান যে জন্মের পর চিকিৎসকরা যখন নবজাত শিশুর অপারেশন করতে হবে বলেছিলেন তখন তিনি খুব ভেঙে পড়েন এবং শুধুই ভগবানকে ডাকেন এবং তাঁর আরাধনা সফল হয়েছে, অসুস্থ ছেলে ডাক্তার হয়েছে এবং সে এখন মানুষের চিকিৎসা করবে। 
 
“লক্ষ্য স্থির রেখে এগোলে কোনও বাধাই থামাতে পারে না।” এটাই হচ্ছে অমল দেবের মুলকথা।


শেহতীয়া খবৰ