হামলায় থামানো যাবে না ‘ভাইজান’ ঝড়! হাড়োয়ায় শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনসমুদ্র বোঝাল নওশাদের জনপ্রিয়তা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
হামলায় থামানো যাবে না ‘ভাইজান’ ঝড়! হাড়োয়ায় শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনসমুদ্র বোঝাল নওশাদের জনপ্রিয়তা
হামলায় থামানো যাবে না ‘ভাইজান’ ঝড়! হাড়োয়ায় শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনসমুদ্র বোঝাল নওশাদের জনপ্রিয়তা
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ

বাংলার রাজনীতিতে নওশাদ সিদ্দিকি যেন ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য আবেগের নাম। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় আইএসএফ প্রার্থীর সমর্থনে নওশাদ সিদ্দিকীর রোড-শোতে হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল। আইএসএফের দাবি, নওশাদ ভাইজানের জনপ্রিয়তা যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে আজ অনেকের কাছেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
শনিবার হাড়োয়ার গোপালপুর থেকে শুরু হওয়া আইএসএফ-এর প্রচারে কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাতের দিকে হলেও এই মিছিলকে জনপ্লাবন বললেও ভুল হবে না। মিছিল হামাধামা এলাকায় পৌঁছাতেই  নওশাদ সিদ্দিকির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আইএসএফের অভিযোগ, নওশাদকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেনস্থা করা হয়। আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেন বটে কিন্তু সকলের মনে  এখন একটাই প্রশ্ন, বাংলার এই জনপ্রিয় জননেতার ওপর কেন এই আক্রমণ? তবে কি নওশাদের বিপুল পরিমান জনপ্রিয়তার কাছেই ভয় পাচ্ছে কোনো পক্ষ?
 
সূত্রের খবর, নওশাদ সামান্য চোট পেলেও আইএসএফের দুজন কর্মী গুরুতর আহত অবস্থায় হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের গাড়ি দেখেই ইট ছোড়া হয়,বাধা সত্ত্বেও আক্রমণ থামেনি। তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল উঠলেও তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল মাতিনের দাবি, আইএসএফ কর্মীরাই প্রথমে আমাদের উদ্দেশে কটুক্তি ও হামলা চালায়। আমাদের কর্মীরা জখম হয়েছে। তবে অনেকেই বলছেন, নওশাদ আসলে প্রকৃত জননেতা। তাই প্রতিপক্ষরা ভয় দেখাতে এই হামলা চালিয়েছে।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদ সিদ্দিকির সবচেয়ে বড় ইউএসপি হল সর্বস্তরে তাঁর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রচারে বা জনসভায় গেলেই হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সমান উপস্থিতি থাকে। কোনো বিভাজনের রাজনীতির কথা না বলে তিনি বাংলার শিক্ষা, উন্নয়ন আর ন্যায়ের কথা তুলে ধরায় আজ ইয়াং জেনারেশনের একাংশের চোখে তিনি এক নতুন আইকন। হাড়োয়া থেকে ক্যানিং, দেগঙ্গা থেকে ভাঙড়, যেখানেই নওশাদ উপস্থিত হচ্ছেন সেখানেই তাঁকে ঘিরে রয়েছে এক অনিয়ন্ত্রিত জনসমুদ্র। প্রচারে গিয়ে যদি রাত ১২ কিম্বা ১টাও বেজে যায় তবুও তাঁর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য মানুষের অপেক্ষা তত দীর্ঘ হয়। তাই হয়তো নওশাদের এই প্রবল জনসমর্থনই প্রতিপক্ষের পেশিশক্তির পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস বলছে, নওশাদে জীবনে আঘাত যত এসেছে, তিনি তত বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন। ৪০ দিনের জেল হেফাজত হোক কিংবা গাড়িতে ভাঙচুর, আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক থাকার সময়ে একাধিক এমন ঘটনা এই শিক্ষিত ও মার্জিত নেতার মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং পরমুহূর্তে তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে নওশাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 
 
হাড়োয়ায় হামলার ঘটনার পর আইএসএফের কর্মীরা বলছেন, নওশাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই বলে দিচ্ছে হামলা চালিয়ে বা ভয় দেখিয়ে এই ‘ভাইজান’ ক্রেজকে স্তব্ধ করা অসম্ভব। হাড়োয়ায় আইএসএফের মিছিলে এই হামলার ঘটনার পর দলের যুবসমাজের কাছে এখন এক নতুন লড়াইয়ের সংকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।