কলকাতার ধর্মীয় নেতা ঈদে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেন মুসলিমদের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
নাখোদা মসজিদ এবং ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি (ইনসেট)
নাখোদা মসজিদ এবং ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি (ইনসেট)
 
নয়াদিল্লি / কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি, যিনি কলকাতার নাখোদা মসজিদ-এর ইমাম, তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ঈদ-উল-আজহার সময় গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে শ্রদ্ধা করে।তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বিতর্ক, আইনি জটিলতা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং একই সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ধর্মীয় নেতার এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর উল্লেখ করে বলেন, ১৪ বছরের বেশি বয়সী গরু জবাই করতে হলে সরকারি শংসাপত্র প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, ১৪ বছরের বেশি বয়সী গরু জবাই করতে হলে একটি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক। মৌলানা শফিক কাসমির এই আহ্বানের জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”

মৌলানা মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি মুসলিমদের গরুর মাংস খাওয়া থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গরুর মাংসকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বিতর্ক ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তিনি সরকারের কাছে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা এবং গোটা দেশে গরু কেনাবেচা, জবাই ও মাংস রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানান।

ধর্মীয় নেতার দাবি, তাঁর এই আহ্বান পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের মধ্যে ক্রমশ সমর্থন পাচ্ছে। তাঁর কথায়, বহু মানুষ এখন মনে করছেন যে গরু কোরবানি এড়িয়ে চলাই বারবার সংঘাত প্রতিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখার সর্বোত্তম উপায়।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মৌলানা মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি বলেন, গরু জবাই সংক্রান্ত আইন নতুন নয়, বরং ১৯৫০ সাল থেকেই এই আইন কার্যকর রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারগুলি এই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল না, কিন্তু বর্তমান সরকার তা আরও কড়াভাবে প্রয়োগ করছে।

তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা আইন মেনে ধর্মীয় কোরবানি সম্পন্ন করেন এবং কোনও বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকেন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তিনি বলেন:কোরবানির পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে,অনুমোদিত ভেটেরিনারি সার্জনের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক এবং শুধুমাত্র নির্ধারিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে।

একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আবেদন জানান, ঈদ-উল-আজহার সময় এই নিয়মগুলি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার আগে যেন পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।মৌলানা মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি উল্লেখ করেন, কলকাতার মতো বড় শহরেও সরকারি পশু চিকিৎসক এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার অভাব রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সমস্ত আইনি শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
 
তিনি বলেন, “সরকার যদি প্রতিটি এলাকায় কসাইখানা ও পশু চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, তাহলে আইন মেনে চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।”

তিনি আরও মুসলিমদের ছাগল, ভেড়া এবং অন্যান্য বৈধ পশু কোরবানি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তাঁর মতে, এতে মুসলিম পশুপালকদের আর্থিকভাবে লাভ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় সামাজিক উত্তেজনাও এড়ানো সম্ভব হবে।নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুহাম্মদ শফিক কাসমি বলেন, মুসলিমরা আইন মেনেই নিজেদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে চান এবং কোনও ধরনের সংঘাতের পক্ষে নন।

তিনি বলেন, “একজন মুসলিম শাকসবজি, মাছ, মুরগি বা খাসির মাংস খেয়েও ভালো মুসলিম থাকতে পারেন। আমাদের হিন্দু ভাইদের অনুভূতিতে আঘাত লাগলে সেই অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।”সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তির উপর জোর দিয়ে মৌলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি বলেন, সব সংবেদনশীল বিষয় সহনশীলতা, প্রজ্ঞা ও আইনি উপায়ে সমাধান করা উচিত।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে যে, ধর্মীয় নেতার এই আহ্বানের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় গরু কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতির ফলে বকর ঈদের সময় বিক্রির জন্য ঐতিহ্যগতভাবে গরু পালন করা মানুষদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অনেক মুসলিম ক্রেতাই এখন গরু কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন।