হাইলাকান্দির আলগাপুর–কাটলিছড়ায় যুবনেতা জুবায়ের আনামের উত্থান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 Months ago
হাইলাকান্দির আলগাপুর–কাটলিছড়ায় যুবনেতা জুবায়ের আনামের উত্থান
হাইলাকান্দির আলগাপুর–কাটলিছড়ায় যুবনেতা জুবায়ের আনামের উত্থান
 
শতানন্দ ভট্টাচার্য / হাইলাকান্দি

একজন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ। প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই চমক দেখালেন জুবায়ের আনাম মজুমদার। গুয়াহাটিতে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই থেকে সদ্য কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে অসম প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতির পদে পৌঁছে তিনি সমগ্র রাজ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
 
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন আর্কিটেক্ট। চাকরির নানা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছাকাছি থাকতে তিনি রাজনীতিকেই বেছে নেন। যখন তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন, তখন কেউ ভাবেনি একদিন তিনি বিধায়ক হবেন।

সোমবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে হাইলাকান্দি জেলার ১২২ নম্বর আলগাপুর–কাটলিছড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত হন কংগ্রেসের এই তরুণ নেতা। তিনি ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বিজেপির মিত্র দল অসম গণ পরিষদের প্রার্থী জাকির হোসেন লস্করকে ১,০৫,২৬৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই আসনে আরও দুই বর্তমান বিধায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও সুজাম উদ্দিন লস্করও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
 
ছোটবেলা থেকেই জুবায়ের মেধাবী ছিলেন। তাঁর পিতা খায়রুজ্জামান মজুমদার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। মা লাভলী বেগম মজুমদারও শিক্ষিতা। বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী জুবায়ের তাই পড়াশোনায় ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছেন। তাঁর এক কাকা শিলচর মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁর বোন একজন বিজ্ঞানী এবং ভাই দুবাইয়ে ব্যবসা করেন।
 
জুবায়ের আনাম মজুমদার
 
সোমবার বিজয় সনদ হাতে নিয়ে জুবায়ের আনাম বলেন, এই জয় কোনও ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশা, বঞ্চনা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত প্রতিফলন। তিনি দায়িত্বশীল রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা তাঁর কাছে এক নৈতিক দায়িত্ব, যার মর্যাদা রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রথম কাজ। ক্ষমতার চেয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং শাসনের চেয়ে সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
 
উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর ভাবনায় একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে। এলাকার জরাজীর্ণ অবকাঠামো শক্তিশালী করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং আধুনিক সুবিধা প্রদান, এসবকেই তিনি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করা, নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোও তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তাঁর কথায় ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাও স্পষ্ট।
 
জনগণের সঙ্গে জুবায়ের আনাম মজুমদারের একটি ছবি
 
নির্বাচনের পরের বিভাজন ভুলে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তিনি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নন, বরং পুরো এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর। এভাবেই যুব নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং উন্নয়নমুখী চিন্তার সমন্বয়ে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে চান, যেখানে মানুষের বিশ্বাস প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।