শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী
হাওড়ার উলুবেড়িয়ার নিমদিঘির তাহেরিনা নাসরিন। আর বিশ্বের মধ্যে তিনিই প্রথম মুসলিম মহিলা সাঁতারু যিনি প্রথম ইংলিশ চ্যানেল জয় করলেন। তিনি দূর পাল্লার সাঁতারু। গত ১৩ বছর ধরে দূরপাল্লার সাঁতারে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ইংলিশ চ্যানেল আর জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ফেলেছেন। ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছেন ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালে ১২ ঘন্টা ৩৮ মিনিটে। আর জিব্রাল্টার চ্যানেল অতিক্রম করেছেন ১১ আগস্ট, ২০২২ সালে, ৪ ঘন্টা ২৩ মিনিটে। এই দুটি চ্যানেল অতিক্রম করার পর বাংলার এই জলপরী শুধু বাংলার নয়, সারা ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
বাংলার এই জলপরী কিন্তু এখানেই থেমে থাকতে চান না। তাঁর দু'চোখে স্বপ্ন সাত সমুদ্র অতিক্রম করার। আগামী বছর (২০২৭) মার্চ মাসেই তিনি রওনা দেবেন নিউজিল্যান্ডের কুক স্ট্রেট প্রণালী অতিক্রম করতে। আর ওই বছর তিনি অতিক্রম করতে চান গ্রেট ব্রিটেনের নর্থ চ্যানেল। এর জন্য তাকে খরচ করতে হবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
খুবই ভালো কথা, আনন্দের কথা, আমাদের গর্বের মেয়ে তাহেরিনা নাসরিন সপ্ত সমুদ্র অতিক্রম করবেন। কিন্তু কি ভাবে এত অর্থ তিনি জোগাড় করবেন? দুটি সমুদ্র অতিক্রম করার পর সাধারন পরিবারের মেয়ের মনে এখন সেই প্রশ্নটাই ঘোরাফিরা করছে।
২০১৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল আর ২০২২ সালে জিব্রাল্টার প্রণালী তিনি অতিক্রম করেছেন সম্পূর্ণ নিজের অর্থ খরচ করে। তাছাড়া বাংলাদেশের সুইম বাংলা চ্যানেল ২০১৮ সালে সিঙ্গেল এবং ২০১৯ ডাবল ক্রস করেছেন। সেটাও নিজের খরচায়।চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ভারতের সব থেকে পুরানো চ্যানেল ধরমতর গেটওয়ে,প্রথম বাঙালি মহিলা সাঁতারু হিসেবে এই চ্যানেল অতিক্রমণ করেছেন।
ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করতে তার খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা আর জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করতে তার খরচ হয়েছে ৮ লাখ টাকা। মোট প্রায় কুড়ি লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তার সাথে সুইম বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করতে মোট ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তাহেরিনা নাসরিন
এই খরচ সামলাতে তাহেরিনা তার বাবার ব্যবসা করে জমানো টাকা, সেই সঙ্গে ব্যাংক লোন আর তার নিজের চাকরি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই চ্যানেলের খরচ সামলেছেন! সরকারি টাকা বলতে যুব কল্যাণ দফতর থেকে পেয়েছেন মাএ এক লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থাই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।
এভাবে কি করে সম্ভব আরো পাঁচটা চ্যানেল অতিক্রম করার টাকা জোগাড় করা। দূড়চেতা তাহারিনা কিন্তু বলছেন যেভাবেই হোক সপ্তসিন্ধু তিনি অতিক্রম করবেন। এরপরও প্রয়াত মাসুদুর রহমানের প্রিয় ছাত্রী বাংলার এই দূড়চেতা দূর পাল্লার সাঁতারু তাহেরিনা নাসরিন বলছেন এর জন্য কিছু স্পন্সর হলে খুব ভালো হয়। তিনি অবশ্য চারিদিকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে দীর্ঘদিন পর তাহেরিনার মুখে হাসি ফুটিয়েছে উলুবেড়িয়ার এক সংস্থা ফ্রেন্ডস এন্টারপ্রাইজ। যারা তাহেরিনার এই কঠিন যাত্রা পথকে সুগম করার জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগামী দিনেও তারা তার পাশে থাকবে এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
তাহেরিনাদের মত কত কীর্তিমান ক্রীড়াবিদ চোখের জল ফেলছে সামান্য একটা স্পন্সরের জন্য। ব্যক্তিগত ভাবে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জ্বল করতে চাইছেন তাদের দিকে তাকানোর মত সময় যে কারোর নেই!