‘ভিটে যাক তবু দেশ বাঁচুক’, এমন বার্তা দিয়ে দেশের সুরক্ষায় কাঁটাতার লাগাতে জমি দিতে চাইছেন সীমান্তবাসীরা

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
‘ভিটে যাক তবু দেশ বাঁচুক’, এমন বার্তা দিয়ে দেশের সুরক্ষায় কাঁটাতার লাগাতে জমি দিতে চাইছেন সীমান্তবাসীরা
‘ভিটে যাক তবু দেশ বাঁচুক’, এমন বার্তা দিয়ে দেশের সুরক্ষায় কাঁটাতার লাগাতে জমি দিতে চাইছেন সীমান্তবাসীরা
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার তৎপর হচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার। নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় জমি। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ পেয়েই মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত পরিদর্শনে নামলেন পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল ও বিএসএফ আধিকারিকরা।
 
পরিসংখ্যান বলছে, বসিরহাট পুলিশ জেলার অধীনে স্বরূপনগরের হাকিমপুর থেকে হিঙ্গলগঞ্জের ৪ নম্বর শামশেরনগর পর্যন্ত মোট ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল অবস্থা। যার মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার জল সীমান্ত আর ৪৬ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। পাশেই বাংলাদেশ থাকলেও এখনও পর্যন্ত এই ৪৬ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের মধ্যে ২০ কিলোমিটার এলাকাই বর্তমানে অসুরক্ষিত বা কাঁটাতার বিহীন অবস্থায় রয়েছে।
 

বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগরের তারালি ও নিত্যানন্দকাঠির মতো এলাকাগুলোতে কোনো বেড়া না থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের বাড়বাড়ন্ত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ আধিকারিকদের নিয়ে বসিরহাটের ‘অসুরক্ষিত’ পয়েন্টগুলি চিহ্নিত করেন। সেইসঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন।
 
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২২১৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ৫৬৯ কিমি বেড়াহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১১২.৭৮ কিমি জায়গায় প্রাকৃতিক কারণ বা ভৌগোলিক সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বাকি ৪৫৬.২২ কিমিতে বেড়া বসানো সম্ভব হলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
 
ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাটাতার বসানোর এই কাজ আটকে ছিল। তবে বাংলায় নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় জমি হস্তান্তরের কাজ এবার দ্রুত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর,  সীমান্তে কাঁটাতার না থাকা  জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য।
 
পশ্চিমবঙ্গের জনগণ
 
পানিরতর বা সাতক্ষীরা সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় যে সমস্ত ভারতীয় চাষিদের জমি কাঁটাতারের ওপারে রয়েছে, তাঁরাও সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের দু ফসলি বা তিন ফসলি জমির মায়া ত্যাগ করে বলছেন, আগে দেশের সুরক্ষা, তারপর আমাদের চাষবাস।
 
সীমান্ত লাগোয়া বাসিন্দাদের দাবি,  প্রশাসনের তরফে কাঁটাতার বসলে গরু পাচার বা অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে আর আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব। বাসিন্দাদের স্পষ্ট কথা, সুরক্ষা এবং শান্তির স্বার্থে সরকার দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করুক তাহলে ঝামেলা চুকে যাবে।
 
বলা ভালো, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স থেকে দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষা করা জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম দফার বড় সিদ্ধান্তটি সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলেই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে। পুলিশ প্রশাসন ও বিএসএফের এমন তৎপরতায় দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ‘বর্ডার ফেন্সিং’ সমস্যা দ্রুত মিটবে বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের।