টিফিনের পয়সায় দুর্গা গড়ে চমক! ১৫ বছরের বিক্রমের হাতের জাদুতে মুগ্ধ প্রতিবেশীরা, খুদে শিল্পীর ইচ্ছে, কেউ তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করুক
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 19 h ago
টিফিনের পয়সায় দুর্গা গড়ে চমক! ১৫ বছরের বিক্রমের হাতের জাদুতে মুগ্ধ প্রতিবেশীরা, খুদে শিল্পীর ইচ্ছে, কেউ তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করুক
তরুণ নন্দী / কলকাতা
স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিনের জন্য দেওয়া হয় ১০ টাকা। টিফিনের সেই টাকার পুরোটাই খরচ না করে একটু একটু করে বাঁচিয়ে রাখত সে। সেই ছোট ছোট সঞ্চয়ই এবার হয়ে উঠল ১৫ বছরের ছাত্রের স্বপ্নপূরণের পুঁজি। আর সেই তিল তিল করে জমানো পুঁজিতেই কাগজ, কার্ডবোর্ড আর নিজের মেধা-পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করে ফেলেছে দুর্গাপ্রতিমা। এই সৃষ্টি সামনে আসতেই মালদা জেলার গাজোলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ১৫ বছরের বিক্রম সরকারকে নিয়ে মেতে উঠেছে গোটা এলাকার মানুষ।
প্রায় এক মাস ধরে কাগজের নানা কারুকার্যে নিজের হাতে দুর্গা প্রতিমাটি তৈরি করেছে বিক্রম। প্রতিমার উচ্চতা প্রায় দেড় ফুট ও আড়াই ফুট চওড়া একচালা দুর্গাপ্রতিমাটি তৈরিতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকার মতো। তবে সেই টাকার জোগাড় হয়েছে স্কুলে যাওয়ার সময় মায়ের দেওয়া টিফিনের টাকা থেকে খরচ বাঁচিয়ে।
এখন প্রতিমার মূল কাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছে বিক্রম। চলছে শেষ পর্যায়ের সাজসজ্জা আর মায়ের বাহন তৈরির কাজ। এই প্রতিমা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে আবেগও জড়িয়ে রয়েছে বিক্রমের কাছে। শিল্পসৃষ্টির ইচ্ছেটা যেন তার স্বপ্নপূরণের পথ করেছে আরও মসৃণ। পুজোর কয়েকটা দিন এই কিশোর বাড়িতেই তার এই প্রতিমাতেই ভক্তিভরে মায়ের আরাধনা করতে চায়। পুজো শেষে প্রতিমাটিকে বিসর্জন না দিয়ে যত্ন করে সংরক্ষণ করার ইচ্ছেও রয়েছে তার। তবে কেউ যদি ভালোবেসে তার এই কাগজের প্রতিমাটি সংগ্রহ করে রাখতে ইচ্ছেপ্রকাশ করেন তাতেও আপত্তি নেই এই খুদে শিল্পীর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবদেবীর মূর্তি তৈরির প্রতি বিক্রমের টান অবশ্য নতুন নয়। যখন মাত্র ৭-৮ বছর বয়স তার, তখন থেকেই কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে রথ, জগন্নাথ, মনসা থেকে গোপাল সহ নানা দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করেছে সে। যা সত্যি দেখার মত।
বিক্রম সরকার
এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলেছে মা দুর্গার মুর্তি। যা দেখে পরিবার তো বটেই প্রতিবেশীরাও অবাক। পুরোহিতের মত পুজোর মন্ত্র হয়তো তার জানা নেই। কিন্তু পুজো করতে ভগবানের প্রতি ভক্তি যে দরকার, তা বিক্রমের কথাতেই স্পষ্ট। তার ইচ্ছে, ষষ্ঠীর বোধন থেকেই নিজের মতো করে ভক্তিভরে মায়ের আরাধনা করার।
বিক্রমের বাবা বিকাশ সরকার একটি মিলে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন। মা গৌরী দাস সরকার গৃহবধূ। নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাঁরা উৎসাহ দেন ছেলের সৃষ্টিশীলতাকে। বিক্রমের মা জানালেন, টিফিনের ১০ টাকা থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে নিজের শখ পূরণ করে ছেলে। মোবাইল বা টিভি দেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় না কাটিয়ে নিজের শিল্পকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে বিক্রম। আর সেই কারণেই বিক্রমকে নিয়ে গর্বিত তাঁর প্রতিবেশীরাও।
বিক্রম সরকারের তৈরি মা দুর্গার প্রতিমা
পুরোহিত আমন কুমার ঝার কথায়, দেবদেবীর প্রতি বিক্রমের গভীর অনুরাগ রয়েছে। নিজের হাতে তৈরি দুর্গাপ্রতিমাটিও সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তবে একজন ভালো শিল্পী হওয়ার সমস্ত গুণ থাকলেও বিক্রমের স্বপ্ন বড় হয়ে সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তবে এটা ঠিক স্বপ্নপূরণ করতে প্রয়োজন ইচ্ছেশক্তি, ধৈর্য, সৃজনশীলতা আর নিজের স্বপ্নকে ভালোবাসার সাহস। যা করে দেখিয়ে বিক্রম প্রমাণ করে দিয়েছে, সুযোগ ছোট হতে পারে কিন্তু স্বপ্ন কখনও ছোট নয়।