প্রথমবার কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের, মহাকাশে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
প্রথমবার কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের, মহাকাশে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
প্রথমবার কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের, মহাকাশে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
 
ওয়াশিংটন: 

পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথমবারের মতো মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে দেশের সামরিক বাহিনী এবং মহাকাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে কক্ষপথে পাঠানো অস্ত্রটি ঠিক কী ধরনের, তার ক্ষমতা কতটা কিংবা কবে সেটি মহাকাশে মোতায়েন করা হয়েছে—সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।

মার্কিন বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান মহাকাশভিত্তিক হুমকির মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনেই এই ধরনের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যেই ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশপথ থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই পদক্ষেপকে দেশের বৃহত্তর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলি মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।

বর্তমানে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, প্রতিপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং প্রয়োজনে শত্রুপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সম্পদ অকার্যকর করার মতো সক্ষমতা নিয়ে বড় শক্তিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি, দিকনির্ণয় এবং বিভিন্ন কৌশলগত অভিযানের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তিগুলি।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুনতম এই শাখার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মহাকাশে থাকা দেশের সামরিক সম্পদ রক্ষা করা। এর আওতায় যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইট রয়েছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের বক্তব্য অনুযায়ী, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ শুধু নিজেদের সম্পদ রক্ষা করা নয়, প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ, ব্যাহত বা ধ্বংস করার ক্ষমতাও গড়ে তোলা। যুদ্ধের সময় এই সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হতে পারে।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়া ও চীন। ওয়াশিংটনের দাবি, দুই দেশই মহাকাশ এবং মহাকাশবিরোধী সামরিক প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত করছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে রুশ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইউরোপের একাধিক স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ও কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যা প্রয়োজনে অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখতে পারে।

চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সামরিক আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে বেজিং দ্রুত মহাকাশ এবং স্যাটেলাইট-বিরোধী সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

ফলে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির পর মহাকাশে নতুন করে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো প্রধান শক্তিগুলির মধ্যে মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।