বাংলাদেশে এবার ‘উলটপুরাণ’, ভারত থেকে গেল ৫০০ টন ইলিশ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 11 h ago
বাংলাদেশে এবার ‘উলটপুরাণ’, ভারত থেকে গেল ৫০০ টন ইলিশ
বাংলাদেশে এবার ‘উলটপুরাণ’, ভারত থেকে গেল ৫০০ টন ইলিশ

নয়াদিল্লি/ঢাকা: 

বাঙালির প্রিয় ইলিশকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরিচিত বাণিজ্যিক ছবিতে এবার বড়সড় বদল। এতদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসার ঘটনাই ছিল বেশি পরিচিত। কিন্তু এবার উল্টো পথে—গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, দুই দেশের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার ভারত থেকে বাংলাদেশে এত বড় পরিমাণে ইলিশ যাওয়ার ঘটনা

বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের জোগান ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা ভারতের বাজারের দিকে ঝুঁকেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গুজরাট থেকে পদ্মাপারে ইলিশ

 

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি হওয়া ইলিশের বড় অংশই গুজরাট থেকে সংগ্রহ করে ভারুচ বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়েও কিছু ইলিশ বাংলাদেশে গেছে।

হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের দাবি, বাংলাদেশ সাধারণত ভারত থেকে বোয়াল, রুই, পারশে ও ট্যাংরার মতো মাছ আমদানি করে। কিন্তু এ বছর ইলিশের ঘাটতির কারণে প্রথমবার ভারতীয় ইলিশের দিকে বড় পরিসরে ঝুঁকেছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।


কেন গুজরাটের ইলিশের চাহিদা বাংলাদেশে?

ব্যবসায়ীদের মতে, গুজরাটের ইলিশে তুলনামূলকভাবে বেশি ডিম বা ‘রো’ থাকে। ভারতের বাজারে এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ইলিশের চাহিদা তুলনামূলক কম হলেও চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমওয়ালা ইলিশের বিশেষ চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের ক্রেতাদের কাছে তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এমনকি আমদানি করা ইলিশের ডিম আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পুনরায় রপ্তানিও করা হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী আমদানি করা ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশের বাজারে পাঠাচ্ছেন। দেশের বাজারে আবার কিছু মাছ শুকিয়ে নোনা ইলিশ হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে।

কমছে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন

এই উলটপুরাণের অন্যতম কারণ বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনে সাম্প্রতিক পতন। বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে bdnews24 জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৫.৭১ লাখ টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে প্রায় ৫.২৯ লাখ টন এবং ২০২৪-২৫-এ প্রায় ৫.০৪ লাখ টনে নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মাছ ধরা, জাটকা নিধন, নদীদূষণ, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং ইলিশের প্রজনন ও চলাচলের পথে বিভিন্ন বাধা—একাধিক কারণ এই সংকটের পিছনে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইলিশের গড় আকারও কমেছে বলে বাংলাদেশের মৎস্য গবেষকরা জানিয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে কি ফের আসবে বাংলাদেশের ইলিশ?

ইলিশকে ঘিরে দুই বাংলার আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুজোর মরশুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসার দীর্ঘদিনের রীতি। চলতি বছরও বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির জন্য ভারতের ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। ১৮টি বাংলাদেশি সংস্থা ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির জন্য আবেদন করেছে ।

তবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে কতটা ইলিশ আসবে, আদৌ রপ্তানির অনুমতি মিলবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ইলিশের বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে এক অভিনব পরিস্থিতি: যে বাংলাদেশ একসময় ভারতীয় বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশ পাঠাত, সেই বাংলাদেশই এবার ভারতের গুজরাটের ইলিশ কিনছে।

এই ঘটনাকে শুধু মাছের বাণিজ্যের পরিবর্তন হিসেবে নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের খাদ্যসংস্কৃতি ও বাজারের পারস্পরিক নির্ভরতার একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।