দিল্লিতে মোদি-পুতিন-জিনপিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক নজর, BRICS-এ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় বড় বার্তার অপেক্ষা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
দিল্লিতে মোদি-পুতিন-জিনপিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক নজর, BRICS-এ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় বড় বার্তার অপেক্ষা
দিল্লিতে মোদি-পুতিন-জিনপিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক নজর, BRICS-এ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় বড় বার্তার অপেক্ষা
 
নয়াদিল্লি: 

শনিবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের এই সম্মেলন ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবারের সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। বিশেষ করে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে, কারণ ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

BRICS-এর আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, স্থানীয় মুদ্রায় পারস্পরিক লেনদেন, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সদস্য দেশগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় নেতৃত্বে UPI-ভিত্তিক আন্তঃদেশীয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তবে রাশিয়ার অবস্থানকে সরাসরি ‘ডলার-বিরোধী জোট’ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে—ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সম্প্রতি বলেছেন, মস্কো ‘ডি-ডলারাইজেশন’কে লক্ষ্য হিসেবে দেখছে না; বরং গ্রহণযোগ্য বিভিন্ন পেমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে।

সম্মেলনের আগে ১১ সেপ্টেম্বর মোদি-পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও পারমাণবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ নজরে রয়েছে রাশিয়ার Su-57 পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভারতে উৎপাদনের সম্ভাবনা।

এছাড়াও ভারতের হাতে থাকা S-400-এর শেষ ইউনিটের সরবরাহ এবং ব্রহ্মোস মিসাইলের পরবর্তী প্রজন্মের উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এখন শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার দিকেও এগোচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দিল্লির BRICS সম্মেলন শুধু পাঁচ দেশের বৈঠক নয়—বদলে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতি, ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ, ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে BRICS-কে সরাসরি আমেরিকা-বিরোধী ‘নতুন অক্ষশক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা এখনও অতিরঞ্জিত হবে; সদস্য দেশগুলির মধ্যেও স্বার্থ ও অবস্থানের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।


শেহতীয়া খবৰ