বেলুচিস্তানকে ঘিরে জল্পনা, ভাইরাল স্বাধীনতার ঘোষণা; তবে মেলেনি সরকারি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
কোয়েটা/ইসলামাবাদ:
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ভাইরাল বিবৃতিতে ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্রোহী বাহিনী অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, মুদ্রা ও প্রশাসনিক কাঠামো চালু করা হবে।
তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার, বেলুচিস্তান প্রাদেশিক প্রশাসন, জাতিসংঘ বা বিশ্বের কোনও দেশ এই দাবি স্বীকার করেনি। আন্তর্জাতিক স্তরেও বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে ভাইরাল হওয়া এই ঘোষণার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষেও কোনও নির্ভরযোগ্য সরকারি বা স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বেলুচ বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও অন্যান্য সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অঞ্চলটি উন্নয়ন ও সম্পদ বণ্টনে বঞ্চিত। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের দাবি, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
এদিকে, বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ‘অপারেশন শাবান’-এ বহু বিদ্রোহী নিহত হওয়ার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। গত ৫ জুলাই কোয়েটার শাবান এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে জঙ্গি হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পরই এই অভিযান শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নতুন নয়। তবে কোনও অঞ্চল নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করলেই তা আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতিও প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া স্বাধীনতার দাবিকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, বিষয়টি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।