যুদ্ধের মাঝেই ইউক্রেনে বড় রাজনৈতিক রদবদল, পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো
কিয়েভ:
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে বড় রাজনৈতিক রদবদল ঘটল। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো মন্ত্রিসভাও পদত্যাগ করেছে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
পার্লামেন্টে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো বলেন, গত এক বছরে দেশের জন্য প্রতিটি দিনই ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর কাজের মাধ্যমে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারে নতুন নেতৃত্ব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নতুন উদ্যম ও নতুন কৌশল প্রয়োজন। যদিও নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা বা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
রাজনৈতিক মহলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানির প্রধান সেরহি কোরেৎস্কি-র নাম নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ-এর নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগের পর ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সরকারের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনার প্রত্যাশা থাকলেও বিরোধীদের অভিযোগ, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। বিরোধী দল হোলোস-এর সাংসদ ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক দাবি করেছেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ফারাক ছিল এবং দুর্নীতির অভিযোগ অব্যাহত ছিল।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এই সরকার পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, নতুন সরকারকে একদিকে যুদ্ধ পরিচালনা, অন্যদিকে অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পুনর্গঠন এবং দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
এখন নজর থাকবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং নতুন মন্ত্রিসভা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ কৌশল কীভাবে নির্ধারণ করে।