দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশিত হল NEET UG ২০২৬-এর ফলাফল। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল, পুনঃপরীক্ষা এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বৃহস্পতিবার রাতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করে। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে। শুরু হয়েছে মেডিকেল ভর্তির কাউন্সেলিংয়ের প্রস্তুতিও। এবারের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের কৃতি ছাত্র সব্যসাচী লস্কর। তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR) ৩৫ অর্জন করে রাজ্যের সেরা হয়েছেন।সব্যসাচীর সাফল্যে খুশি সকলেই।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পার্সেন্টাইল ৯৯.৯৯৭৯। যদিও তাঁর প্রাপ্ত নম্বর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দেশের প্রথম ৫০ জনের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলার শীর্ষস্থানীয় পরীক্ষার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি।
সব্যসাচী লস্কর বাব ও মায়ের সাথে
পরিবার ও শিক্ষকদের কথায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ধারাবাহিকভাবে মেধার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন সব্যসাচী। স্কুলজীবনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রথম সারিতে থাকার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতাই বজায় থাকল দেশের সবচেয়ে কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির অন্যতম NEET UG-তেও। সম্প্রতি সব্যসাচী লস্কর রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সে নবম স্থান অর্জন করেন।
বিডিএম ইন্টারন্যাশনালের এই ছাত্র ২০২৪ সালে সিবিএসই দশমের পরীক্ষায় ৫০০ মধ্যে ৫০০ পেয়ে সকলকে চমকে দিয়েছিল। অঙ্ক তাঁর প্রিয় বিষয়, সমস্ত জিনিস খুঁটিয়ে পড়তে ভালবাসে।তাঁর এই কৃতিত্বে শুধু সোনারপুর নয়, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং রাজ্যজুড়েই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মহলের মতে, সব্যসাচীর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের পড়ুয়াদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি অঙ্কন এবং সঙ্গীত চর্চা করতে ভালবাসে সব্যসাচী। রবীন্দ্রসংগীত এবং নজরুল গীতি ভাল গাইতেও পারে। সব্যসাচীর বাবা বশির আহমেদ লস্কর বেসরকারি ব্যাঙ্কের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মা চামেলী সর্দার অতুলকৃষ্ণ রায় বিদ্যায়তন ফর গার্লসের আ্যসিস্ট্যান্ট টিচার। তাঁরা দু’জনেই ছেলের সাফল্যে খুবই খুশি।
জাতীয় স্তরে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন পাঞ্জাবের আরিয়ান গুপ্তা এবং হরিয়ানার পানশুল বনসল। দু'জনেই ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। এ বছর ৭০০-র বেশি নম্বর পেয়েছেন একাধিক পরীক্ষার্থী, যা দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রতিযোগিতার তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে।NTA-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ১১.২১ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী এমবিবিএস, বিডিএস, আয়ুষ এবং অন্যান্য স্নাতক স্তরের মেডিকেল কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ফলে আসন্ন কাউন্সেলিং পর্বেও তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।
এবারের NEET UG ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিতর্কিত প্রবেশিকা পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে প্রথম দফার পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই পুনঃপরীক্ষার ফলাফলই বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ করেছে NTA। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় অংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ফল প্রকাশের পর এখন নজর মেডিকেল ভর্তির কাউন্সেলিংয়ে। ১৫ শতাংশ অল ইন্ডিয়া কোটার আসনের কাউন্সেলিং পরিচালনা করবে মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি (MCC)। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ৮৫ শতাংশ রাজ্য কোটার আসনের কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বে থাকবে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি (WBMCC)। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই কাউন্সেলিংয়ের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল প্রকাশের পর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ শুরু হয় কাউন্সেলিং পর্যায়ে। শুধু ভালো র্যাঙ্ক নয়, সঠিক কলেজ ও বিষয় নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার্থীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নিয়মিত নজর রাখা এবং পছন্দের তালিকা তৈরির সময় র্যাঙ্ক, আসন সংখ্যা, সংরক্ষণ নীতি, ফি কাঠামো ও পূর্ববর্তী বছরের কাট-অফ বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের NEET UG ২০২৬-এর শীর্ষ ১০ পরীক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তালিকা প্রকাশিত হলে তাঁদের নাম, অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক, প্রাপ্ত নম্বর এবং জেলার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
দীর্ঘ বিতর্ক, পুনঃপরীক্ষা এবং অপেক্ষার পর ফল প্রকাশের মাধ্যমে NEET UG ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। এবার দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির লক্ষ্যে শুরু হচ্ছে পরবর্তী পর্ব, কাউন্সেলিং।